কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পরই পুর প্রশাসনে শুরু হলো প্রবল টানাপোড়েন। সূত্রের খবর, মেয়রের পদত্যাগের পর এবার কলকাতা পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়ার প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মেয়াদের আরও ৬ মাস বাকি থাকলেও, আর এই চেয়ারে বসে থাকার কোনো অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।
কেন এই ইস্তফা ও বোর্ড ভাঙার জল্পনা? ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পুরসভার অন্দরে তৃণমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা দেখা দিয়েছে। ফিরহাদ হাকিমের অভিযোগ, দলের বহু কাউন্সিলরকে নিজেদের ওয়ার্ডে আর সেভাবে জনসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি, পুরসভার আধিকারিকদের কাছ থেকেও প্রশাসনিক কাজে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ফিরহাদ হাকিমের কথায়, “ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মতো অবস্থা।” এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে কাজ করা তাঁর কাছে ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছিল। পুরসভা সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি এখন সময়ের অপেক্ষা। এ বিষয়ে খুব দ্রুত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি হতে পারে।
স্মৃতির পাতায় দায়িত্বকাল: নিজের দীর্ঘ মেয়াদের কথা স্মরণ করতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, গত সাড়ে সাত বছরের দায়িত্বকালে আমফান ঝড় এবং করোনা অতিমারির মতো দুটি ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা তাঁর মেয়রের জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা ছিল। শহরের নাগরিকদের পরিষেবা নিশ্চিত করতে তিনি যে ‘টক টু মেয়র’ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, তাও ছিল তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।
রাজনৈতিক পটভূমি: বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পর কলকাতার মেয়রের এই ইস্তফা রাজ্যের পুর-রাজনীতিতে বড়সড়ো ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে কাউন্সিলরদের অনীহা, অন্যদিকে প্রশাসনিক অচলবস্থা—সব মিলিয়ে কলকাতা পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন কোনো পথে সরকার এগোবে কি না, তা নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা।





