বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যেই ভারত ও চীনের সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ভারত ও চীনের মধ্যে একটি স্থিতিশীল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা খুবই জরুরি। বিশেষ করে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের উপর শুল্ক বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কেন জরুরি?
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের একদিন আগে জাপানের একটি দৈনিক পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোদী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারত ও চীন শুধু দুটি প্রতিবেশী দেশ নয়, তারা পৃথিবীর দুটি বৃহত্তম দেশও। তাই এই দুটি দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকলে তা কেবল এই দুই দেশের জন্যই নয়, বরং পুরো এশিয়া এবং বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যও খুবই জরুরি।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য দুই দেশের ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান অস্থিরতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো বিশ্বের অর্থনীতিতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে ভারত ও চীনের মতো দুটি বড় অর্থনৈতিক শক্তির একসঙ্গে কাজ করা উচিত। এতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকবে। মোদী আরও বলেন, ভারত পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং একে অপরের প্রতি সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করে চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।
ভারত-চীন সম্পর্কের অগ্রগতি
গত বছর চীনের কাজানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে মোদীর একটি বৈঠক হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী জানান, সেই বৈঠকের পর থেকে ভারত ও চীনের সম্পর্কের অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি আশা করেন, আসন্ন বৈঠকটি দুই দেশের স্বার্থ এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের পণ্যের উপর ১৪৫ শতাংশ এবং ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক থাকার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।