আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছল। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ গবেষণা, জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের মতে, এই বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণায় বড় পদক্ষেপ: দুই দেশের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি ‘লেটার অব ইন্টেন্ট’ সই হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে উন্নত সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তি যৌথভাবে তৈরি করবে ভারত ও আমিরাত। অন্যদিকে, মহাকাশ ক্ষেত্রে দুটি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট তৈরির কারখানা স্থাপনের চুক্তি হয়েছে, যা দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ভারতের মহাকাশ আধিপত্যকে আরও শক্তিশালী করবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরমাণু শক্তি: ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমিরাত। এর ফলে আমিরাত এখন ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে উঠে এল। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি: আমিরাত সরকার গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়নসহ ভারতের ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই প্রকল্পে বড়সড় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। সার্বভৌম ডেটা সুরক্ষায় ‘ডেটা এম্বাসি’ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় কৃষকদের কথা মাথায় রেখে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে একটি মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রবাসী ভারতীয়দের উপহার: আবুধাবিতে বসবাসরত প্রায় ৪৫ লক্ষ ভারতীয়র সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রপ্রধানই সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি তুলেছেন। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে দুই দেশ আগামী দিনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে।