চীনের সাংহাই বিমানবন্দরে ব্যক্তিগত সফরে গিয়ে জাপানের এক উচ্চপদস্থ পরমাণু কর্মকর্তার মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হারানো এই স্মার্টফোনটিতে জাপানের ‘নিউক্লিয়ার রেগুলেশন অথরিটি’ (NRA)-এর অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গোপন যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য ছিল। ওই কর্মকর্তা এমন এক বিভাগের সঙ্গে যুক্ত, যাদের মূল কাজই হলো পরমাণু স্থাপনায় চুরি, সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করা।
বিবিসি এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর যখন জাপান আবারও তাদের বন্ধ থাকা পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরগুলো চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, ঠিক তখনই এই বড়সড় নিরাপত্তার ত্রুটি সামনে এল। সাংহাই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ফোনটি খোয়া যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিন দিন পর বিষয়টি বুঝতে পেরে বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও ফোনটির হদিশ মেলেনি। এনআরএ জানিয়েছে, ওই ফোনে জরুরি পরিস্থিতির জন্য বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কর্মীদের ডেটা সংরক্ষিত ছিল।
জাপানি সংবাদমাধ্যম ‘আসাহি’ এবং ‘কিয়োডো নিউজ’ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যে ‘পারসোনাল ইনফরমেশন প্রোটেকশন কমিশন’-কে বিষয়টি জানিয়েছে এবং কর্মীদের বিদেশ সফরে দপ্তরের ফোন না নেওয়ার কড়া নির্দেশ জারি করেছে। তবে এটিই প্রথম নয়; ২০২৩ সালে এক কর্মী গাড়ির ছাদে গোপন নথি ফেলে চলে গিয়েছিলেন, আবার অন্য এক কর্মীর বিরুদ্ধে নথি পাচারের অভিযোগ উঠেছিল। সাম্প্রতিক এই ‘ফোন-বিভ্রাট’ জাপানের পারমাণবিক নিরাপত্তা তদারকির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।