চিরবিদায় সুরের সরস্বতীর! মান্না দে থেকে অজয় দাস— বাংলা গানেও কেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আশা ভোঁসলে?

ভারতীয় সঙ্গীতের আকাশে আজ এক বিশাল নক্ষত্রপতন। থেমে গেল সেই চিরযৌবনা কণ্ঠ। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা সঙ্গীত বিশ্ব। তবে কেবল বলিউডের প্লেব্যাক বা হিন্দি গজল নয়, বাঙালির হৃদয়ে আশাজির স্থান ছিল একেবারে স্বতন্ত্র। বাংলা ভাষাকে আপন করে নিয়ে তিনি উপহার দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী গান।

মান্না দে ও আশার সেই রসায়ন: বাংলা গানের স্বর্ণযুগে মান্না দে এবং আশা ভোঁসলে জুটির গান ছাড়া বাঙালির প্রেম যেন অপূর্ণ ছিল। ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’, ‘ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে’ কিংবা ‘যদি কাগজে লেখো নাম’— এই গানগুলো আজও বাঙালির ড্রয়িংরুমে নস্টালজিয়া জাগিয়ে তোলে। মান্না দের শাস্ত্রীয় ঘরানার সঙ্গে আশার ভার্সাটাইল গায়কী এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছিল।

অজয় দাসের সুরে জাদুকরী কণ্ঠ: বাংলা চলচ্চিত্রে অজয় দাসের সুরে আশা ভোঁসলের গাওয়া গানগুলি ছিল তৎকালীন সময়ের চার্টবাস্টার। ‘ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস’, ‘বলো তো আরশি’ বা ‘কথা দিয়েও এলে না’— এই গানগুলি প্রমাণ করে দিয়েছিল যে, কেবল চপল গান নয়, বিরহ এবং গভীর আবেগের গানেও তিনি ছিলেন অনন্যা। বাংলা উচ্চারণের মাধুর্যে তিনি বারেবারে টেক্কা দিয়েছেন অনেক বাঙালি শিল্পীকেই।

বাঙালির নস্টালজিয়া ও আশা: সুমন কল্যাণপুর বা আরতি মুখোপাধ্যায়ের যুগেও আশা ভোঁসলে নিজের জায়গা করে নিয়েছিলেন শুধুমাত্র কঠোর পরিশ্রম আর সুরের জাদুতে। রাহুল দেব বর্মনের সুরে তাঁর গাওয়া পূজা বার্ষিকীর অ্যালবামগুলো আজও পুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে অনুরণিত হয়।

আজ তিনি শারীরিকভাবে আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু মান্না দে থেকে অজয় দাস— কিংবদন্তিদের সুরে গাওয়া তাঁর অমর গানগুলি বাঙালির হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। সুরের সম্রাজ্ঞী বিদায় নিলেও তাঁর সুরের মায়া বাঙালির কানে প্রতিধ্বনিত হবে আজীবন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy