তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই গোটা দেশের নজর এখন দক্ষিণের এই রাজ্যের দিকে। বিশেষ করে চেন্নাইয়ের ১৬টি আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকেই চিপক-থিরুভাল্লিকেনি আসনটিকে পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ ‘ভবানীপুর’ আসনের সঙ্গে তুলনা করছেন। এবারের লড়াইয়ে সরাসরি ময়দানে রয়েছেন রাজ্যের দুই শীর্ষ কান্ডারি—মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিন।
ডিএমকে-র দুর্গ হিসেবে পরিচিত কোলাথুর আসন থেকে আবারও প্রার্থী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্ট্যালিন। ২০১১ সাল থেকে এই আসনে তাঁর জয়রথ অব্যাহত। অন্যদিকে, চিপক-থিরুভাল্লিকেনি আসনটি, যা এককালে করুণানিধির গড় ছিল, সেখান থেকে লড়ছেন উদয়নিধি স্ট্যালিন। বাবার তৈরি করা জমি আর ছেলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা—এই দুইয়ের মিশেলে চেন্নাইয়ের লড়াই এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে লড়াইটা মোটেও সহজ নয়। এআইএডিএমকে এবং বিজেপির জোট এবার কোমর বেঁধে নেমেছে স্ট্যালিন পরিবারকে রুখতে। বিরোধী শিবিরের দাবি, পরিবারতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে চেন্নাইয়ের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দেবে। অন্যদিকে, অভিনেতা বিজয়-এর রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’ (TVK) এই লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় অঙ্ক আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজয়ের প্রভাব ডিএমকে-র ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
চেন্নাইয়ের ১৬টি আসনের প্রতিটিতেই সেয়ানে-সেয়ানে লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ সুপার এবং প্রশাসন সূত্রে খবর, স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হচ্ছে। সিসিটিভি নজরদারি এবং কড়া পুলিশি প্রহরার মধ্যে দিয়ে এবারের নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শেষ পর্যন্ত চিপক থেকে কোলাথুর—জয় কার হাতে ওঠে, সেটাই এখন দেখার।