এক সময় যে দেশ ‘এক সন্তান নীতি’র কড়াকড়িতে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, আজ সেই চিনই হাঁটছে সম্পূর্ণ বিপরীত পথে। জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবার গর্ভনিরোধক সামগ্রী বা বার্থ কন্ট্রোল পণ্যের ওপর কর ছাড় তুলে নিল শি জিনপিং প্রশাসন। ২০২৬-এর শুরুতেই চিনের এই সিদ্ধান্তে শোরগোল পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
কেন দামি হচ্ছে কন্ডোম ও পিল? চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে চিনে কন্ডোম এবং বার্থ কন্ট্রোল পিলের ওপর ১৩ শতাংশ ভ্যাট (VAT) চাপানো হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য পরিষ্কার— গর্ভনিরোধক সামগ্রীকে সাধারণের নাগাালের বাইরে নিয়ে গিয়ে মানুষকে সন্তান ধারণে উৎসাহিত করা। আসলে গত তিন বছর ধরে চিনের জনসংখ্যা ক্রমাগত কমছে, যা দেশটির ভবিষ্যতের জন্য লাল সংকেত।
চিনের বড় বিপদ ‘বার্ধক্য’: বর্তমানে চিনের ২০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬০ বছরের বেশি। রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্ট বলছে, চিনের জন্মহার এখন বিশ্বের সর্বনিম্ন দেশগুলোর একটি (১.১৬%)। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চিন ‘ধনী হওয়ার আগেই বুড়িয়ে যাবে’। এতে শ্রমশক্তি কমবে এবং মুখ থুবড়ে পড়বে অর্থনীতি। জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়া এই সংকটে থাকলেও, চিনের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এই বিপুল সংখ্যক বৃদ্ধ মানুষের চাপ সামলাতে এখনও প্রস্তুত নয়।
তরুণ প্রজন্মের অনাগ্রহ ও ‘ডিঙ্ক’ লাইফস্টাইল: সরকার সন্তান চাইলেও চিনের তরুণ প্রজন্ম কিন্তু উল্টো কথা বলছে। উচ্চ বাড়িভাড়া, পড়াশোনার আকাশছোঁয়া খরচ এবং চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে অধিকাংশ যুবক-যুবতী বিয়ে বা সন্তান নিতে নারাজ। বর্তমানে চিনে ‘ডিঙ্ক’ (DINK – Double Income, No Kids) সংস্কৃতি ব্যাপক জনপ্রিয়। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ১৮ থেকে ৩১ বছর বয়সীদের দুই-তৃতীয়াংশই জানিয়েছেন তাঁরা কোনো সন্তান চান না।
ইতিহাসের অভিশাপ: আশির দশকে চালু হওয়া ‘এক সন্তান নীতি’ চিনকে আজকের এই জনতাত্ত্বিক সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অতীতে বলপূর্বক গর্ভপাত বা বন্ধ্যাকরণের স্মৃতি এখনও টাটকা। এখন দুই বা তিন সন্তানের অনুমতি দিলেও সাধারণ মানুষ তাতে খুব একটা সাড়া দিচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এবার কন্ডোম ও ওষুধের ওপর কর বসানোর মতো কঠোর প্রতীকী পদক্ষেপ নিল বেজিং।