চিনের মেগা বাঁধের হুমকি মোকাবিলায় ভারতের পাল্টা কৌশল, অরুণাচলে হচ্ছে ‘দিবাং মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’

চীন তিব্বতে ইয়ারলুং তসাংপো নদীতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার পর, ভারত দ্রুত তার নিজস্ব কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে দিবাং মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট বাস্তবায়নে নেমেছে। এটি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নয়, বরং উত্তর-পূর্ব ভারতের বন্যা প্রতিরোধ এবং কৌশলগত সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এনএইচপিসি লিমিটেড এই বাঁধ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যেই ১৭,০৬৯ কোটি টাকার বৈশ্বিক দরপত্র জারি করেছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে দিবাং বাঁধটি ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ হিসেবে গণ্য হবে, যার উচ্চতা হবে ২৭৮ মিটার। এর মাধ্যমে বছরে ১১,২২৩ মিলিয়ন কিউবিক মিটার বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।
এই বাঁধের মূল উদ্দেশ্য হলো, চীনের বাঁধ থেকে জলমুক্তির কারণে সৃষ্ট অপ্রত্যাশিত বন্যার প্রভাব শূন্য করে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা। বাঁধের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১,৮৭৫ কোটি টাকা, যার বিনিময়ে অরুণাচল প্রদেশ প্রতি বছর ৭০০ কোটি টাকার বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পাবে।
চীন তার মোটু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে ইয়ারলুং তসাংপো নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এই নদীটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, আসাম এবং বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। যদিও চীন এটিকে তাদের বৈধ অধিকার বলে দাবি করেছে, ভারত এটিকে একটি কৌশলগত হুমকি হিসেবে দেখছে। দিবাং প্রজেক্টের মাধ্যমে ভারত চীনের জলসীমা সংক্রান্ত হুমকি মোকাবিলায় আরও সক্ষম হবে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবনকে সুরক্ষিত রাখতে পারবে। অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু ২০৩২ সালের মধ্যে এই প্রকল্পটি সম্পন্ন করার অঙ্গীকার করেছেন।