ভূ-রাজনীতির ময়দানে সময় বড় বলবান। যে বাংলাদেশ ও মলদ্বীপ গত কয়েক মাস ধরে ‘ইন্ডিয়া আউট’ বা ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়েছিল, আজ তারাই ভারতের দুয়ারে কড়া নাড়ছে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। এই চরম সংকটের মুহূর্তে নিজের তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার সুরক্ষিত করতে মরিয়া ঢাকা ও মালে এখন দিল্লির সাহায্যের মুখাপেক্ষী।
একদা চিনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জু ভারতের প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্দরেও ভারত-বিরোধী হাওয়া জোরালো করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে সব সমীকরণ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এবং সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় দুই দেশই এখন ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighborhood First) নীতির সুযোগ নিতে চাইছে।
নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, চরম জ্বালানি সংকটের হাত থেকে বাঁচাতে ভারত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। যদিও কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি ভারতের জন্য একটি বড় জয়। বিপদে পড়ে শত্রুরও বন্ধু হয়ে ওঠা প্রমাণ করে যে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বিকল্প আজও কেউ নেই। চিনের থেকে দূরে সরে এসে আবারও দিল্লির আশ্রয়ে আসা এই দুই দেশের জন্য এটি কি নিছক প্রয়োজন, নাকি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের নতুন মোড়? সময় তার উত্তর দেবে।





