খাস প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী কেন্দ্রে খোদ পুলিশকেই চড় মারার দুঃসাহস! বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে কর্তব্যরত এক সাব ইনস্পেক্টরকে চড় মারার অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক বিজেপি কাউন্সিলারের ছেলের বিরুদ্ধে। তবে নেতার ছেলের দাদাগিরি এবার আর মুখ বুজে সহ্য করেনি সাধারণ মানুষ। চোখের সামনে পুলিশের গায়ে হাত তুলতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়া জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণধোলাই দিয়ে তুলে দিল পুলিশের হাতে।
“চেনেন আমাকে? আমি কাউন্সিলারের ছেলে!”
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে বারাণসীর চওক থানা এলাকায়। ভিড় সামলাতে মণিকর্ণিকা ঘাটের কাছে বাইক পার্কিং নিষিদ্ধ করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই হুকুলগঞ্জের বিজেপি কাউন্সিলার ব্রিজেশচন্দ্র শ্রীবাস্তবের ছেলে হিমাংশু শ্রীবাস্তব ও তার দুই বন্ধু নো-পার্কিং জোনে বাইক রাখার চেষ্টা করেন। কর্তব্যরত সাব ইনস্পেক্টর বাধা দিতেই মেজাজ হারান হিমাংশু। চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমাকে চেনেন? আমি কাউন্সিলারের ছেলে!”
উর্দিধারীর গায়ে হাত, পাল্টা ধোলাই জনতার
পুলিশকর্মী নিজের কর্তব্যে অবিচল থেকে বাইক সরাতে বললে শুরু হয় তীব্র কথা কাটাকাটি। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযোগ, বচসা চলাকালীনই হঠাৎ ওই সাব ইনস্পেক্টরের গালে কষিয়ে চড় মারেন হিমাংশু। সরকারি আধিকারিকের ওপর এমন আকস্মিক আক্রমণে হতভম্ব হয়ে যান উপস্থিত সকলে। কিন্তু দাদাগিরি বেশিক্ষণ ধোপে টেকেনি। চোখের সামনে পুলিশকে হেনস্তা হতে দেখে হিমাংশুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। কিল-চড়-ঘুষিতে একাকার করে দেওয়া হয় অভিযুক্তকে।
লকআপে ঠাঁই, জখম অবস্থায় হাসপাতালে ‘দাদাগিরি’র নায়ক
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশই কোনওরকমে হিমাংশুকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে চওক থানায় নিয়ে যায়। চওক থানার ইনচার্জ অভিষেককুমার ত্রিপাঠীর অভিযোগের ভিত্তিতে হিমাংশুর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে জনতার বেদম মারধরে হিমাংশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্তমানে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বারাণসীর এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, রাজনৈতিক দাপট দেখিয়ে আইনের রক্ষকদের হেনস্তা করলে সাধারণ মানুষ আর চুপ করে বসে নেই।