চিকিৎসার জন্য গোপন হাসপাতাল যাত্রার পরেই আদিয়ালা জেলে প্রত্যাবর্তন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর! আসল রহস্য কী?

শীর্ষ আদালতের কড়া নির্দেশকে সামনে রেখে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে শুক্রবার ভোরে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর সংক্ষিপ্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের প্রক্রিয়া শেষ হতেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে নাটকীয়ভাবে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান যে তাঁর তেমন কোনো মারাত্মক বা জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা নেই। এরপরই তড়িঘড়ি তাঁকে আবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে কারাবন্দি পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরানের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য তাঁকে দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদের কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে। আদালতের সেই নির্দেশ মেনেই এদিন ভোরে কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনী ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পিতরাস বুখারি রোড হয়ে হাসপাতালের ১ নম্বর গেট দিয়ে তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। এ সময় হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আটশোর বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। পাশাপাশি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামাবাদের আইজি সৈয়দ আলী নাসির রিজভি।

তোশাখানা মামলায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে ২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি রয়েছেন এই পিটিআই supremo। এর আগে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট আদালতের কাছে একটি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করেছিলেন। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে পিআইএমএস (PIMS)-এর চিকিৎসক ডা. আখতার আলী বান্দেশাহ ইমরানকে পরীক্ষা করে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, বুক ধড়ফড় করা, মাথাব্যথা এবং অতিরিক্ত অস্থিরতার মতো শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক চাপের নেপথ্যে স্ত্রী, পরিবার এবং পরিচিতজনদের সঙ্গে অনিয়মিত সাক্ষাৎ এবং সংবাদপত্র ও টেলিভিশন থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকাকেই আংশিকভাবে দায়ী করেছিলেন।

এদিকে, হাসপাতালের বাইরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং ভিড় এড়ানো যায়, সেজন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পিটিআই সমর্থকদের শান্ত থাকার এবং কোনো বাধা সৃষ্টি না করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন। হাসপাতাল থেকে কারাগারে পুনরায় স্থানান্তরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি এক্স-এ আদালতের এই প্রাথমিক পদক্ষেপকে ‘প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আবেগঘন বার্তায় উল্লেখ করেন যে গত তিন বছর ধরে ইমরানকে এক গভীর নিঃসঙ্গতার মধ্যে রাখা হয়েছিল, যেখানে তাঁকে সংবাদপত্র, বইপত্র, পরিবার এবং তাঁর নিজের দেশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল। তবে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে এই সংক্ষিপ্ত হাসপাতাল যাত্রা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।