চিকিৎসার জন্য কি কারাগার ছাড়বেন ইমরান খান? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরই রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে!

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটার আশঙ্কা প্রকাশ করে পরিবার ও সমর্থকদের উদ্বেগের মধ্যেই তাঁকে চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট কারাবন্দি ইমরান খানকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে বন্দি রয়েছেন ৭৩ বছর বয়সি এই পিটিআই (PTI) প্রতিষ্ঠাতা। দুর্নীতির অভিযোগে ১৪ বছরের সাজা ভোগ করলেও তাঁর দাবি, এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাঁর সংঘাতের বিষয়টি বারবার সামনে এসেছে।

এদিকে ইমরান খানের উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে তাঁরা স্বাগত জানালেও এর নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নেই। তাঁর দাবি, কারাগারে সম্পূর্ণ একা থাকার কারণে ইমরানের রক্তচাপ ওঠানামা করা সহ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং তিনি সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছেন, দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের আইন অনুযায়ী কারাগার বা সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই স্বাস্থ্য সংকট এবং হাসপাতাল স্থানান্তর ঘিরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে।