‘চিকিৎসায় রাজনীতি নয়’, ডাক্তার দিবসে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর; রাজ্যে বড়সড় পরিবর্তনের ডাক

আজ, বুধবার ‘জাতীয় ডাক্তার দিবস’ উপলক্ষে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সকালে স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত চিকিৎসকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি কৃতি চিকিৎসকদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, চিকিৎসার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক রং থাকা কাম্য নয়। তিনি স্বামী বিবেকানন্দের বাণী—”জীবে প্রেম করে যে জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর”—কে পাথেয় করে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, বাংলার মেধা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, “বাংলার মেধাবী চিকিৎসকেরা দেশ-বিদেশে রাজত্ব করছেন, অথচ এই রাজ্যের সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য ভিনরাজ্যে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। অন্য রাজ্যের মানুষ যেখানে ‘আয়ুষ্মান কার্ড’ পাচ্ছেন, সেখানে আমাদের মানুষ হাজার হাজার টাকার বিল মেটাচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।”
বর্তমান স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য ভবন এবং মেডিকেল কলেজগুলির যে অব্যবস্থাপনা দেখেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই অবস্থার দ্রুত হাল ফেরাতেই সরকার অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে তিনি জানান, মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের মৌ (MoU) স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে, যা বাংলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের সুরক্ষায় নতুন আইন ও বিধি কার্যকর করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভয় আউট, ভরসা ইন”—এই মন্ত্র নিয়ে সরকার কাজ করছে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে রোগী রেফার সংক্রান্ত সমস্যা কমিয়ে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। অর্জুনের লক্ষ্যভেদের মতো নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির রেখেই সরকার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাষণে একদিকে যেমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ঝরে পড়েছে, তেমনি চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে আস্থা ফিরিয়ে আনার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ডাক্তার দিবসের এই কর্মসূচি রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।