চিকিৎসাবিজ্ঞানে ঐতিহাসিক যুগান্তকারী সাফল্য! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি হলো ক্যানসারের বিশেষ ওষুধ

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক যুগান্তকারী সাফল্যের হাতছানি। ক্যানসারের চিকিৎসায় এতদিন যাকে ‘অজেয়’ বা অপ্রতিরোধ্য বলে মনে করা হতো, সেই চ্যালেঞ্জকে এবার মুঠোর মধ্যে আনতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। বেঙ্গালুরুর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ওষুধ আবিষ্কারকারী প্রতিষ্ঠান ‘শ্রাবতী এআই টেকনোলজিস’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ‘মায়ো ক্লিনিক’-এর গবেষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে একটি অভিনব ‘স্মল-মলিকিউল ইনহিবিটর’। অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় যা এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
শরীরে ক্যানসার সাধারণত নীরবেই বাসা বাঁধে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। ফলে রোগ শনাক্ত হতে প্রায়শই দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ইমিউনোথেরাপি এবং লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার মতো আধুনিক পদ্ধতি যুক্ত হলেও, টিউমার বৃদ্ধির জন্য দায়ী নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন প্রচলিত ওষুধ দিয়ে ধ্বংস করা সম্ভব ছিল না। বিজ্ঞানীদের পরিভাষায় এগুলোকে ‘আনড্রাগেবল টার্গেট’ বলা হতো। সেই দুর্গম প্রোটিনগুলোকেই এবার সফলভাবে নিশানা করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
‘সেল রিপোর্টস’ নামক বিজ্ঞান পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বেঙ্গালুরুর এই এআই সংস্থা এবং মায়ো ক্লিনিকের গবেষক দল প্রায় ৪০ হাজার সম্ভাব্য যৌগের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে পরীক্ষা চালায়। দীর্ঘ পরীক্ষার পর তারা এমন একটি যৌগ আবিষ্কার করেন, যা জিআইপিসি ওয়ান প্রোটিনের কার্যকারিতা সফলভাবে ব্যাহত করতে পারে। গবেষণাগারে ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই ওষুধটি টিউমারের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করে দেয়, রোগীর বেঁচে থাকার মেয়াদ বাড়ায় এবং প্রচলিত কেমোথেরাপির কার্যকারিতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ফ্লোরিডার মায়ো ক্লিনিকের ক্যানসার গবেষক তথা এই গবেষণার অন্যতম প্রধান লেখক ডা. দেবব্রত মুখোপাধ্যায় জানান, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসা সবসময়ই অত্যন্ত দুরূহ, কারণ এই টিউমারগুলো দ্রুত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এমন সব কঠিন উপাদানকে লক্ষ্যবস্তু বানানো সম্ভব হয়েছে, যা আগে চিকিৎসকদের কাছে অসম্ভব বলে মনে হতো। যদিও এই আবিষ্কারটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে এবং মানুষের শরীরে এর নিরাপত্তা যাচাই করতে আরও দীর্ঘ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রয়োজন, তবুও ক্যানসার চিকিৎসায় এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ চিকিৎসা বিজ্ঞানকে এক বিশাল ধাপ এগিয়ে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।