চিংড়ি রপ্তানিতে মার্কিন শুল্কের বোঝা, অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু কেন্দ্রের কাছে চাইলেন সহায়তা

আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়ানোয় অন্ধ্রপ্রদেশের চিংড়ি রপ্তানি তীব্র ক্ষতির মুখে পড়েছে। সরকারি আধিকারিকদের অনুমান, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে প্রায় ২০০০ কন্টেইনার চিংড়ি রপ্তানিতে ৬০০ কোটি টাকার শুল্কের বোঝা চেপেছে।
অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু রাজ্যের চিংড়ি চাষিদের দুর্দশা থেকে বাঁচাতে কেন্দ্রের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্কের কারণে প্রায় আড়াই লক্ষ মৎসজীবী পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের উপর নির্ভরশীল ৩০ লক্ষ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন।
নাইডু কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছেন:
আর্থিক সহায়তা: তিনি জিএসটি-তে ছাড় এবং চাষিদের জন্য আর্থিক প্যাকেজ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক চুক্তি: বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন বাজার খুঁজতে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব ও রাশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) করার অনুরোধ করেছেন।
অভ্যন্তরীণ বাজার: মৎস্যমন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং-কে তিনি দেশের মধ্যে চিংড়ির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের আমদানিতে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৫.৭৬ শতাংশ কাউন্টারভেলিং শুল্ক এবং ৩.৯৬ শতাংশ অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক, ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯.৭২ শতাংশ।
চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, রাজ্যের চিংড়ি চাষিদের সহায়তায় কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যেমন অ্যাকোয়া ফিডের দাম কমানো এবং ট্রান্সফরমারের জন্য ভর্তুকিযুক্ত সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করা। তবে এই বিশাল ক্ষতির মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে তিনি মনে করেন।