গেট থেকে তাড়িয়ে দেওয়ায় রাস্তায় সন্তান প্রসব! চরম গাফিলতিতে অবশেষে কড়া ব্যবস্থার মুখে চিকিৎসকরা

উত্তরপ্রদেশের ভদোহী জেলা থেকে এক অত্যন্ত মর্মান্তিক ও অমানবিক ঘটনা সামনে এসেছে, যা দেশের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে ফের কাঠগড়ায় তুলেছে। ভদোহীর মহারাজা চেতসিং জেলা হাসপাতালের মূল গেটের বাইরে প্রকাশ্য রাস্তায় এক প্রসূতি নারী সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হয়েছেন। অভিযোগ, বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভেতরে ভর্তি করেনি, বরং নানা বাহানায় ফিরিয়ে দেয়। আর তার পরেই হাসপাতালের ঠিক বাইরে রাস্তায় এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
ভদোহীর জোরাই গ্রামের বাসিন্দা প্রায় কুড়ি বছরের এক তরুণী প্রসব বেদনা নিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে জ্ঞানপুরের মহারাজা চেতসিং জেলা হাসপাতালে এসেছিলেন। প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তার বা নার্সরা তাঁকে কোনো গুরুত্ব দেননি এবং ভর্তি না করে উল্টে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এরপর হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে বাইরে আসতেই মহিলার শারীরিক পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং খোলা আকাশের নিচে পথচলতি মানুষের দেওয়া চাদরের আড়ালেই তিনি ফুটফুটে সন্তানের জন্ম দেন। এই অমানবিক ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ভদোহীর সিএমও (CMO) ড. সন্তোষ কুমার চক সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন যে ওই প্রসূতির রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা অত্যন্ত কম (মাত্র ৫ গ্রাম) ছিল। তাঁর অবস্থা সংকটজনক থাকায় চিকিৎসকরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বারানসী বিএইচইউ (BHU)-তে রেফার করেছিলেন এবং পরিবারের লোকজন অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় এই বিপত্তি ঘটে।
তবে সিএমও এই অজুহাত দিলেও গাফিলতির অভিযোগে বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা হাসপাতালের ইএমও (EMO) ডা. পঙ্কজ কুমারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, নারী রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মুকেশ প্রজাপতির সেপ্টেম্বর মাসের বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্টাফ নার্স নীলম মৌর্যকে জেলা হাসপাতাল থেকে সরিয়ে ওরাইয়ের একটি হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সিনিয়র গাইনোকোলজিস্ট ডা. নীলিমা ধাওয়ান এবং চিফ মেডিকেল সুপারিটেন্ডেন্টের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলাশাসক শাদেশ কুমার সরাসরি রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন।