সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজের শেষ ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য ১২১ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে ৯ উইকেটে জেতান রোহিত শর্মা। ভারত ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার এড়াতে সক্ষম হলেও, এই পারফরম্যান্সের পুরো কৃতিত্ব রোহিত তাঁর ‘নিজস্ব শর্তে’ নেওয়া দীর্ঘ প্রস্তুতির ওপর দিলেন। রোহিত জানিয়েছেন, শুধু পেশাদার ক্রিকেট নয়, জীবনের অন্যান্য দিকগুলো বোঝার কারণেই এই সাফল্য এসেছে।
আইপিএল-এর পর মে মাস থেকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার আগে চার-পাঁচ মাস লম্বা বিরতি পান রোহিত। বিসিসিআই-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি যখন খেলা শুরু করি, তখন কোনো সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নিতে চার-পাঁচ মাস সময় পাইনি। তাই আমি সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম। আমি আমার মতো করে, আমার নিজস্ব শর্তে কাজগুলো করতে চেয়েছিলাম, যা আমার জন্য খুব ভালো কাজ করেছে। আমার বাকি ক্যারিয়ারের জন্য কী করা দরকার, সেটা বোঝার জন্য এটা জরুরি ছিল।”
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই সিরিজে ম্যাচসেরা ও সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন রোহিত। তিনি বলেন, “সেই সময়টা কাজে লাগানো খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ এত লম্বা সময় আমি কখনোই পাইনি এবং আমি বাড়িতে খুব ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখানকার আর ভারতের পরিবেশের মধ্যে পার্থক্য আছে, কিন্তু আমি আগেও অনেকবার এখানে এসেছি, তাই শুধু ছন্দে ফেরার দরকার ছিল।”
রোহিত তাঁর প্রস্তুতির জন্য নিজেকেই কৃতিত্ব দিয়েছেন, “এখানে আসার আগে আমি যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, তার জন্য অনেক ক্রেডিট দেব। কারণ, কখনও কখনও বুঝতে হয় যে, আপনার পেশাগত কাজের বাইরেও জীবনে অনেক কিছু করার আছে। কিন্তু আমি হাতে প্রচুর সময় পেয়েছিলাম এবং সেটা কাজে লাগিয়েছি।”
বিরাট কোহলির সঙ্গে ম্যাচের মোড় ঘোরানো পার্টনারশিপ:
দীর্ঘদিনের সঙ্গী বিরাট কোহলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও ম্যাচ জেতানো পার্টনারশিপটিকে খুব উপভোগ করেছেন রোহিত। তিনি বলেন, “অস্ট্রেলিয়ায় খেলাটা আমি উপভোগ করি… আজকেও বড় রান করে দলকে জেতাতে পারলাম। আমরা যখন ব্যাটিং শুরু করি, তখন দুটো নতুন বলের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিল, পিচ শুরুতে কিছুটা অদ্ভুত আচরণ করছিল এবং আমরা জানতাম একবার বলের ঔজ্জ্বল্য চলে গেলে কাজটা সহজ হয়ে যাবে।”
বিরাটের সঙ্গে পার্টনারশিপ নিয়ে তিনি বলেন, “অনেক দিন পর একটি অসাধারণ পার্টনারশিপ (কোহলির সঙ্গে)। আমার মনে হয়, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ১০০ রানের পার্টনারশিপ হয়নি। একটা সময় দল যেখানে ছিল, সেই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য এই পার্টনারশিপটা খুবই ভালো ছিল।”
রোহিত আরও জানান, “(শুভমন) গিল একটু তাড়াতাড়ি আউট হয়ে গিয়েছিল, এবং আমরা জানতাম (আহত) শ্রেয়স আইয়ার না থাকায় ব্যাটসম্যানদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল। আমরা দু’জন মাঠে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছি, আমাদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা হচ্ছিল। আমরা একসাথে এত ক্রিকেট খেলেছি যে, একে অপরকে খুব ভালোভাবে বুঝি, আমাদের দুজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা খুব ভালোভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি।”
সিরিজ হারলেও তরুণ ফাস্ট বোলার হর্ষিত রানার পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন রোহিত। তিনি বলেন, “সিরিজ থেকে অনেক ইতিবাচক দিক আছে, বিশেষ করে হর্ষিত রানা, যে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার সাদা বলের ক্রিকেট খেলছে, এবং দুটো ম্যাচেই (সিডনি ও অ্যাডিলেড) সে যেভাবে বোলিং করেছে, তা তার কাছ থেকে দুর্দান্ত প্রচেষ্টা ছিল।”
দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রোহিত বলেন, “প্রথমত, পাশে এমন মানুষ থাকায় আমি খুবই কৃতজ্ঞ। আমরা যখনই খেলেছি, মানুষ শুধু আমাদের দু’জনকেই নয়, পুরো দলকেই সমর্থন করতে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ায় দর্শকরা কখনোই হতাশ করেন না। তারা প্রচুর সংখ্যায় ক্রিকেট দেখতে আসেন কারণ দুটো ভালো দল খেলছে, তারা মানসম্পন্ন ক্রিকেট দেখতে চায়। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা সিরিজ জিততে পারিনি, তবে এখানে এসে আমরা উপভোগ করেছি। অস্ট্রেলিয়া জুড়ে দর্শকদের সমর্থনের জন্য সত্যিই কৃতজ্ঞ। আশা করি, তারা এটা চালিয়ে যাবেন।”





