চাচাই হলেন খুনি, ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ধার শোধের জন্য নৃশংসভাবে খুন ১৪ বছরের ভাইপো!

ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের জন্য নেওয়া ঋণ শোধের চাপ থেকে বাঁচতে গাজিয়াবাদে ১৪ বছরের এক কিশোরকে নৃশংসভাবে গলা টিপে খুন করল তারই কাকা। এই ঘটনায় গোটা শহরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত কিশোরের নাম লক্ষ্য। তার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে দিল্লির প্রীত বিহারের একটি সিনেমা হলের কাছ থেকে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম যুবরাজ ওরফে যশ প্রজাপতি। তিনি পেশায় একজন কেবিন ক্রু কর্মী এবং অবসরে ক্রিপ্টো ট্রেডিং করতেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর, যুবরাজ লক্ষ্যকে সিনেমা দেখার নাম করে ডেকে নিয়ে যান। সেখানেই প্রথমে গলা টিপে এবং পরে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে তাকে খুন করেন। এরপর নির্বিকারভাবে সেই এলাকারই একটি মলে গিয়ে সিনেমা দেখেন। বাড়িতে ফিরে লক্ষ্যকে খুঁজে পাওয়ার নাটকও করেন।

তদন্তে জানা গেছে, যুবরাজ তাঁর কাকা মনবীরের কাছ থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকার আংশিক ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। এই চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি এমন ভয়াবহ পরিকল্পনা করেন। লক্ষ্যের পরিবারের নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন ট্র্যাকিং এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ যুবরাজকে গ্রেপ্তার করে। জেরায় তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। ইন্দিরাপুরম এসিপি অভিষেক শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

প্রেমের জটিলতায় কানপুরে হত্যাকাণ্ড, সুটকেসে লাশ ভরে যমুনা নদীতে ফেলে দিল প্রেমিক!
কানপুর: প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা থেকে সৃষ্ট এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কানপুরে। দীর্ঘ দুই মাস তদন্তের পর পুলিশ এক যুবক ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযোগ, ২০ বছরের এক তরুণীকে খুন করে তার লাশ সুটকেসে ভরে যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত তরুণীর নাম আকাঙ্খা ওরফে মাহি। তিনি কানপুরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং তারা লিভ-ইন সম্পর্কে আবদ্ধ হন। গত ৮ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার পর তার মা থানায় ডায়েরি করেন। প্রথম দিকে পুলিশ এটিকে সাধারণ নিখোঁজ বলে ধরে নিলেও মায়ের তৎপরতায় তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবক একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। বিষয়টি জানতে পেরে আকাঙ্খা প্রায়ই আপত্তি তুলতেন। ঘটনার দিন রেস্তোরাঁয় ঝগড়া শুরু হয়ে তা বাড়িতে চরম আকার ধারণ করে। উত্তেজনার বশে যুবক প্রথমে আকাঙ্খাকে মারধর করে এবং পরে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর বন্ধুর সাহায্যে একটি সুটকেসে দেহ ভরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে যমুনা নদীতে ফেলে দেন।

পুলিশ প্রথমে অভিযুক্তের বয়ানে অসঙ্গতি পায় এবং মোবাইল ফোনের লোকেশন ও কল রেকর্ডের মাধ্যমে সত্য সামনে আসে। প্রমাণের মুখে সে অপরাধ স্বীকার করে। অভিযুক্তের বন্ধুকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনেরই জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে প্রেমের সম্পর্কের দ্বন্দ্ব কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।