চাঁদের মাটিতে হাঁটবে ভারতীয়! ২০৪০-এর টার্গেট ফিক্স করল ইসরো, বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ?

মহাকাশ বিজ্ঞানের দুনিয়ায় ফের একবার ডঙ্কা বাজাতে চলেছে ভারত। ২০৪০ সালের মধ্যেই চাঁদের মাটিতে পা রাখতে চলেছেন ভারতীয় মহাকাশচারীরা। বুধবার পঞ্চম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া (ASI) সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই বড় ঘোষণা করেন ইসরোর (ISRO) প্রাক্তন প্রধান এ এস কিরণ কুমার

লক্ষ্য ২০৪০: শুধু যাওয়া নয়, ফেরার গ্যারান্টিও

কিরণ কুমার জানান, এখন থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত ভারতের হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মিশন রয়েছে। তবে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চাঁদে মানুষ পাঠানো এবং তাঁদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, “আমরা শুধু মহাকাশচারীদের পাঠাতে চাই না, তাঁদের সুরক্ষিতভাবে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে সমান গুরুত্ব দিচ্ছি।”

মহাকাশে হবে ভারতের নিজস্ব স্টেশন

চাঁদে মানুষ পাঠানোর পাশাপাশি মহাকাশে নিজস্ব ‘স্পেস স্টেশন’ বা মহাকাশ গবেষণাগার তৈরির লক্ষ্যেও অবিচল ভারত। বিকশিত ভারত কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে ২০৪৭ সালের আগেই মহাকাশ গবেষণায় বিশ্বনেতা হওয়ার পথে এগোচ্ছে ইসরো।

জাপানের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে ভারত (মিশন রোডম্যাপ)

আগামী দিনের মিশনগুলো নিয়ে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রাক্তন ইসরো প্রধান:

  • চন্দ্রযানের পরবর্তী ধাপ: চন্দ্রাভিযানের পরবর্তী মিশনের জন্য জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে ল্যান্ডার ও রোভার তৈরির কাজ চলছে।

  • দক্ষিণ মেরু রহস্য: চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চল থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত।

  • আদিত্য এল-১ ও অন্যান্য: সূর্যযানের সাফল্যের পর এবার বুধ ও শুক্র গ্রহের দিকেও নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

শান্তি ও বিজ্ঞানের জয়গান

এ এস কিরণ কুমার এক তাৎপর্যপূর্ণ দাবি করে বলেন, ভারতই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা মহাকাশ গবেষণাকে সামরিক স্বার্থে ব্যবহার না করে পুরোপুরি মানবকল্যাণ ও বিজ্ঞানের উন্নতির কাজে লাগিয়েছে। যার সুফল ভোগ করছে গোটা বিশ্ব।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট চন্দ্রযান-৩-এর মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরু জয় করে ইতিহাস গড়েছিল ভারত। এবার সেই ইতিহাসকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে সশরীরে চাঁদের বুকে তেরঙা ওড়ানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy