চাঁদের দেশে চার সওয়ারি! ৫০ বছর পর নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের শুভসূচনা

মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক স্বর্ণালী মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বিশ্ব। দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফের চাঁদের অভিমুখে পাড়ি দিল মানুষ। বুধবার ইস্টার্ন টাইম সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট থেকে ৮টা ২৪ মিনিটের মধ্যে ফ্লোরিডার কেনেডি মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে ওরিয়ন মহাকাশযানটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। নাসার এই মেগা মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘আর্টেমিস ২’। ৩২২ ফুট দীর্ঘ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (SLS) রকেটটি এই যাত্রায় সহায়তা করেছে।

এই অভিযানে শামিল হয়েছেন চার নির্ভীক মহাকাশচারী— কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হানসেন। যদিও এই মিশনে তাঁরা চাঁদের মাটিতে সরাসরি পা দেবেন না, তবে চাঁদের উপরিভাগ থেকে কয়েক হাজার মাইল ওপর দিয়ে প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবেন। ১০ দিনের এই যাত্রায় তাঁরা ওরিয়ন মহাকাশযানের ‘লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম’ এবং দীর্ঘমেয়াদী মহাকাশ ভ্রমণের বিভিন্ন কারিগরি দিক পরীক্ষা করবেন। যাত্রাপথে মহাকাশচারীরা সঙ্গে নিয়েছেন বাইবেল, প্রিয়জনদের হাতের লেখা চিঠি এবং পরিবারের স্মৃতিচিহ্ন।

নাসা জানিয়েছে, এই অভিযানটি আসলে ২০২৮ সালে চাঁদে মানুষ নামানোর প্রস্তুতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্পেস এক্স ও ব্লু অরিজিনের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলির সহযোগিতায় ভবিষ্যতে চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী মানব বসতি স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালে শেষবার অ্যাপোলো মিশনের মাধ্যমে মানুষ চাঁদে গিয়েছিল। অর্ধশতক পর নাসার এই প্রত্যাবর্তন মহাকাশ বিজ্ঞানে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।