চলন্ত মেট্রোর দরজায় কালো স্প্রে, কে এই ব্যাক্তি? মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি!

চলন্ত মেট্রোর কামরায় প্রকাশ্যে এক ব্যক্তির ডিওডোরেন্টের ক্যানের মতো কিছু দিয়ে দরজায় কালো রঙের স্প্রে করার ঘটনা নেটমাধ্যমে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর যাত্রীরা যেমন আতঙ্কিত, তেমনই মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অবশেষে এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতি জারি করেছে কলকাতা মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।
কী ঘটেছিল সেদিন?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ব্লু লাইনের একটি মেট্রো রেকের (MR-409, কোচ নং 4036) মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটেছে। ফাঁকা মেট্রোর আসনে কয়েকজন যাত্রী বসে থাকলেও, এক ব্যক্তি বুকে ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে আসেন। ব্যাগ থেকে একটি ক্যান বের করে তিনি গাড়ির দরজায় কালো রঙ স্প্রে করে দেন। মেট্রোর ওই নির্দিষ্ট অংশে ভিড় কম থাকায় এবং অন্য সিটগুলি ঠাসা থাকায় কেউ তাকে বাধা দিতে এগিয়ে আসেননি। এই ঘটনার ফলে কোচের সৌন্দর্য মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের কড়া বার্তা:
এই ঘটনার পর থেকেই নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন, ওই ব্যক্তি কী ছড়াচ্ছিলেন এবং কেন মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিল না? সমালোচনার মুখে মেট্রো রেলওয়ে একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, তারা এই ধরনের কার্যকলাপকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। কোচের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক পুরুষ যাত্রীই এই কাজটি করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মেট্রো রেলওয়ে, কলকাতার গর্ব উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই ধরনের কাজ মেট্রোর ভাবমূর্তি নষ্ট করে এবং মেট্রো ব্যবহারকারীদের অনুভূতিতেও আঘাত করে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ সকলকে এই ধরনের কাজ করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে যে, রেক এবং স্টেশনগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং এই ধরনের কার্যকলাপ সহজেই ধরা পড়ে। তাই অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব এবং এর সঙ্গে জড়িত যে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পিটিআই সূত্রে খবর, কলকাতা পুলিশও এই অপরাধীকে শনাক্ত করতে মেট্রো রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
এই ঘটনা একদিকে যেমন মেট্রো যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সম্পত্তির সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, তেমনই মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কিছুটা হলেও যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। এখন দেখার, কত দ্রুত এই অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যায়।