স্ত্রীর মাথা কেটে ফ্রিজে রেখেছিল যে! পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে শেষমেশ কী পরিণতি হলো রামানুজের?

স্ত্রীর মাথা দেহ থেকে আলাদা করে ফ্রিজে বন্দি রাখার মতো এক পৈশাচিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত রামানুজ গোস্বামীর রহস্যজনক মৃত্যু হলো। গত ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার পর থেকেই সে পুলিশি হেফাজতে ছিল। অবশেষে শারীরিক পরীক্ষা শেষে থানায় ফেরার পথে চলন্ত পুলিশি গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে গুয়াহাটি পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন শারীরিক পরীক্ষার জন্য রামানুজকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে হাতিগাঁও থানায় ফিরিয়ে আনার সময় নারাকসুর পাহাড় এলাকার কাছে হঠাৎই চলন্ত গাড়ির ভেতরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্ত রামানুজ। পুলিশ দাবি করেছে, এরপর সে আচমকাই চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তার পাশের খাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে তার মাথায় মারাত্মক ও গুরুতর আঘাত লাগে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, গতকালই তার পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হয়েছিল এবং আজ তাকে পুনরায় আদালতে পেশ করার কথা ছিল।

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

গত ৩ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটি শহরের বেলতলা এলাকার নিজেদের ফ্ল্যাটেই স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে নির্মমভাবে খুন করে পেশায় ক্যাব চালক রামানুজ। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর রিয়াকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিল সে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকার সন্দেহের বশেই স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে রামানুজ। খুনের পর স্ত্রীর মাথা ও হাতের আঙুল দেহ থেকে আলাদা করে একটি পলিথিনে মুড়ে ফ্রিজের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে চম্পট দেয় সে।

পরবর্তীতে ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে রিয়ার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে এবং ফ্রিজ থেকে কাটা মাথা ও আঙুল উদ্ধার করতেই গোটা রাজ্যে শোরগোল পড়ে যায়। গ্রেফতারির পর শুরুতে অভিযুক্তের গলায় বিন্দুমাত্র অনুশোচনা না দেখা গেলেও, পরবর্তীতে সে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানায়, “এরকম ভুল যেন আর কেউ না করে।” তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারের আগেই নাটকীয় ও ভয়াবহ পরিণতি হলো এই জঘন্য খুনির।