ঘুম ভাঙল ৫.৪ মাত্রার শক্তিশালী কাঁপুনির ঝটকা খেয়ে! মিশরে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের জেরে বড়সড় বিপদের আশঙ্কা?

সোমবার ভোরে ৫.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে তীব্রভাবে কেঁপে উঠল মিশরের একাধিক এলাকা সহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (GFZ)-এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় সোমবার ভোর প্রায় ৩টা নাগাদ এই আকস্মিক ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়। ভূপৃষ্ঠের খুব কাছে অর্থাৎ মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরতায় এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল বলে জানা গেছে। আচমকা এই ভূকম্পনের জেরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সাধারণ মানুষ তীব্র আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে দ্রুত রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
মিশরের সরকারি প্রশাসনের প্রাথমিক দাবি অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের নির্দিষ্ট কেন্দ্রস্থল ছিল সুয়েজ শহর থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)-এর তথ্য বলছে, ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্রটি সুয়েজ শহরের প্রায় ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ছিল। ভূকম্পনের এই তীব্রতা কেবল মিশরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এর জোরালো প্রভাব অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী একাধিক রাষ্ট্রেও। মিশরের রাজধানী কায়রো, গিজা এবং দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের পাশাপাশি ফিলিস্তিন, ইজরায়েল, জর্ডন, লেবানন এবং সাইপ্রাসের কিছু অংশেও বাসিন্দারা তীব্র কম্পন টের পান।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরপরই মিশর রেড ক্রিসেন্ট তাদের জরুরি পরিষেবা (Emergency Response) পুরোপুরি সক্রিয় করে তুলেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখনও পর্যন্ত এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোনো সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির সরকারি খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলি থেকে বাসিন্দাদের দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি, শুধুমাত্র নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের মাধ্যমেই সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করার এবং কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার বিশেষ আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মিশর এবং এর পার্শ্ববর্তী পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলটি সামগ্রিকভাবে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই ভৌগোলিক অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই ৫ থেকে ৬ মাত্রার মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনে থাকে। যদিও অতীতের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অঞ্চলে খুব বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় বা মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে দেখা যায়নি। তা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক এই মাঝারি মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে প্রশাসন। যে কোনো ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।