বছরের পর বছর বন্যার কবলে পড়া ঘাটালবাসীর জন্য অবশেষে এল বড় আশার খবর। পূর্ববর্তী সরকারের ‘একলা চলো’ নীতি থেকে বেরিয়ে এসে, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে নতুন দিশা দেখাল রাজ্যের বর্তমান সরকার। সোমবার নবান্নে সচিব পর্যায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করলেন, এখন থেকে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে (৫০:৫০ খরচের অনুপাতে) এই মেগা প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হবে।
রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠার সুফলকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিনের এই বন্যা সমস্যা সমাধানের স্থায়ী পথ খুঁজছে বর্তমান প্রশাসন। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সেচ দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রেক্ষাপট:
নতুন ফর্মুলা: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের মোট খরচের ৫০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্র এবং বাকি ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার।
পূর্বতন সরকারের সমালোচনা: তৎকালীন সরকারের পাঠানো ১,২৭০ কোটি টাকার প্রস্তাবকে বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছে বর্তমান প্রশাসন। স্থানীয় বিধায়ক শীতল কপাটের দাবি, প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার প্রয়োজন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের সরকারের মূল লক্ষ্য মাস্টারপ্ল্যান নয়, বরং নদী থেকে বালি ও মাটি লুঠ করা ছিল।
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি: ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সরকার গঠিত হলে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হবে। সেই প্রতিশ্রুতির রেশ ধরেই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিলেন।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর বর্ষার মরসুমে ঘাটাল ও দাসপুর-সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অতীতেও বারবার ত্রাণ ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এবার প্রশাসনিক স্তরে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ঘাটালবাসীর দীর্ঘদিনের এই জলযন্ত্রণা মেটানোর স্বপ্ন কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের মানুষ।





