হুমকি, সন্ত্রাস এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর চরম নিগ্রহের মুখে পড়লেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল নেতা নিত্যানন্দ অধিকারী। শুধু নেতা নন, পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন যুধিষ্ঠির ঘোষ নামে এক কয়লা ব্যবসায়ীও। শুক্রবার তাঁদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় যে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে।
অভিযোগ, নিত্যানন্দ অধিকারী ও কয়লা ব্যবসায়ী যুধিষ্ঠির ঘোষ দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় সন্ত্রাস কায়েম করেছিলেন। হুমকির পাশাপাশি আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মতো অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়। পুলিশি তদন্তের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার দুপুরে যখন ধৃতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আদালতে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল, তখন পাণ্ডবেশ্বর থানা চত্বরে জড়ো হন শত শত ক্ষুব্ধ মানুষ।
পুলিশ ভ্যান থানা থেকে বেরোতেই জনতার রোষ আছড়ে পড়ে। উপস্থিত জনতার একাংশ হঠাৎ করেই ধৃতদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ‘চোর, চোর’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। পুলিশের বিশাল বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও জনতার ক্ষোভ ছিল বাঁধভাঙা। ডিমের আঘাতে জর্জরিত নিত্যানন্দ অধিকারী নিজের প্রাণ বাঁচাতে এবং চূড়ান্ত অপমান থেকে বাঁচতে দৌড়ে গিয়ে প্রিজন ভ্যানের ভেতর ঢুকে পড়েন।
স্থানীয়দের দাবি, এই তৃণমূল নেতা ও ব্যবসায়ী জোট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। তাঁদের কথায়, “আজ বিচার শুরু হয়েছে। মানুষ দীর্ঘদিন মুখ বুজে সব সহ্য করেছে, কিন্তু আজ আর কেউ চুপ থাকেনি।” ঘটনার সময় পুলিশি নিরাপত্তা থাকলেও যেভাবে সাধারণ মানুষ অভিযুক্তদের আক্রমণ করেন, তাতে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযুক্তদের প্রিজন ভ্যানে তোলার পরেও দীর্ঘক্ষণ গাড়িটিকে ঘিরে রাখে উত্তেজিত জনতা।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ঘটনার মাধ্যমে। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আদালত চত্বরেও এদিন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল যাতে ধৃতদের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়। फिलहाल পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশের ওপর এখন নজর রাখছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রাজনৈতিক মহল।





