গ্যাস সঙ্কটের বৈঠকে হঠাৎ ‘নন্দীগ্রাম’ কেন? জেলাশাসকদের কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতার!

নবান্নে আয়োজিত হয়েছিল রাজ্যের বর্তমান জ্বালানি ও এলপিজি গ্যাস সরবরাহ নিয়ে জরুরি বৈঠক। কিন্তু সেই প্রশাসনিক আলোচনার মাঝেই আচমকা উঠে এল ‘নন্দীগ্রাম’ প্রসঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলাশাসকদের সতর্ক করতে গিয়ে কেন হঠাৎ কয়েক দশক আগের সেই স্মৃতি উস্কে দিলেন, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যে যে গ্যাসের হাহাকার চলছে, তাকে কেন্দ্র করে যেন কোনওভাবেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে না চলে যায়।

বৈঠক সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের ওপর কোনও ধরণের বলপ্রয়োগ বা পুলিশি সক্রিয়তা না দেখানো হয়। তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, মানুষের অভাব-অভিযোগ যখন চরমে ওঠে, তখন প্রশাসনিক ভুলে পরিস্থিতি নন্দীগ্রামের মতো হয়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করবেন না।” মমতার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আসলে আমলাতন্ত্রকে মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন যে, জনরোষ সঠিকভাবে সামলাতে না পারলে তা সরকারের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের সেই রক্তাক্ত ইতিহাসকে উদাহরণ হিসেবে টেনে তিনি জেলাস্তরের আধিকারিকদের অত্যন্ত মানবিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, গ্যাস সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্র রাজ্যে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। তিনি সাফ জানান, রেশন বা গ্যাসের মতো অতিপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে মানুষের মধ্যে হাহাকার তৈরি হলে তার দায় সরাসরি প্রশাসনের ওপর বর্তায়। তাই পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে নয়, বরং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ২০২৬-এর এই কঠিন সময়ে মমতার এই ‘নন্দীগ্রাম সতর্কতা’ প্রশাসনিক মহলে এক ধরণের বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy