গোয়া অগ্নিকাণ্ড: ২৫ জনের মৃত্যুর পর পাসপোর্ট বাতিল হতেই থাইল্যান্ডে আটক নাইটক্লাবের মালিক লুথরা ব্রাদার্স

গোয়ার আরপোরায় ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ (Birch by Romeo Lane) নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তদন্তে নেমে আন্তর্জাতিক স্তরে তৎপরতা দেখাল ইন্টারপোল। ঘটনার পরই দেশ ছেড়ে পালানো ক্লাবটির মালিক সৌরভ লুথরা (Sourav Luthra) ও গৌরব লুথরাকে (Gaurav Luthra) থাইল্যান্ড পুলিশ আটক করেছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়া পুলিশ আগে থেকেই এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে লুক আউট সার্কুলার (LOC) জারি করেছিল। এরপরই ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে ব্লু কর্নার নোটিস জারি করে আন্তর্জাতিক নজরদারি শুরু করে।
তদন্তকারীদের দাবি, গত ৬ ডিসেম্বর যখন দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভেতরে আটকে পড়া ২৫ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধারে ব্যস্ত ছিলেন, লুথরা ভাইরা তখনই দিল্লি থেকে থাইল্যান্ডের টিকিট কাটেন। ইমিগ্রেশন রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁরা ভোর ৫.৩০-এর ইন্ডিগো ফ্লাইট 6E 1073-এ চড়ে ফুকেত পৌঁছন। গোয়া সরকারের অনুরোধে বিদেশ মন্ত্রক (MEA) দ্রুত তাঁদের পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়, যার ফলে বিদেশে তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি আরও জোরদার হয় এবং অবশেষে থাইল্যান্ড পুলিশ তাঁদের আটক করে। এদিকে, দিল্লির একটি আদালত বুধবার এই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারি থেকে আগাম সুরক্ষা (Interim Protection) দিতে অস্বীকার করেছে।
লুথরা ভাইদের ব্যবসা শুরু হয় দিল্লির হাডসন লেনের ‘মামাস বুয়োই’ রেস্তরাঁ দিয়ে, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। সেখান থেকেই তাঁরা বড় ব্র্যান্ড ‘রোমিও লেন’-এর পত্তন করেন। বর্তমানে তাঁদের ‘রোমিও লেন’, ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’, ‘কাহা’ সহ ২৫টিরও বেশি আউটলেট রয়েছে সারা দেশে। এমনকি, বিদেশে দুবাইতেও তাঁদের ব্যবসা বিস্তার লাভ করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সম্ভবত ফায়ারওয়ার্কস থেকেই আগুন ছড়িয়েছিল। অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে দমবন্ধ হয়ে। ছোট দরজা, সরু অ্যাকসেস ব্রিজ এবং ঘটনাস্থল থেকে ৪০০ মিটার দূরে দমকলের গাড়ি রাখার সমস্যার কারণে উদ্ধারকাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল।