গোবর্ধন পুজো ২০২৫, কেন কৃষ্ণের হাতে গোবর্ধন পর্বত উঠল? জানুন তিথি, শুভ সময় ও ছাব্বিশ ভোগের মহিমা!

দিওয়ালির ঠিক পরের দিন গোবর্ধন পুজো (Govardhan Puja) বা অন্নকূট উৎসব পালিত হয়। এটি হলো প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দ্বারা শুরু হওয়া এক আরাধনা। এই দিন সমাজে সমৃদ্ধির ভিত্তি হিসেবে গোমাতা বা গরুর পুজো করা হয়। মূলত ব্রজভূমি (মথুরা, বৃন্দাবন) থেকে এই পুজোর উৎপত্তি হলেও বর্তমানে এটি গুজরাট ও রাজস্থান-সহ সারা ভারতে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়।গোবর্ধন পুজোর তিথি ও শুভ সময়এই বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে গোবর্ধন পুজো পালিত হবে ২২ অক্টোবর। দৃক পঞ্চাং (Drik Panchang) অনুসারে, এই পুজোর তিথি ও শুভ সময় নিচে দেওয়া হলো:বিবরণসময়তিথিকার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ (Pratipada) তিথি।প্রতিপদ তিথি শুরু২১ অক্টোবর, ২০২৫, সন্ধ্যা ৫টা ৫৪ মিনিট।প্রতিপদ তিথি শেষ২২ অক্টোবর, ২০২৫, রাত ৮টা ১৬ মিনিট।প্রথম শুভ মুহূর্ত২২ অক্টোবর, ২০২৫, সকাল ৬টা ২৬ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত।দ্বিতীয় শুভ মুহূর্ত২২ অক্টোবর, ২০২৫, বিকেল ৩টা ২৯ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৫টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত।কেন পালিত হয় গোবর্ধন পুজো?দৃক পঞ্চাং অনুসারে, ভাগবত পুরাণ-এ গোবর্ধন পুজোর মূল কাহিনি রয়েছে। দ্বাপর যুগে বৃন্দাবনের গ্রামবাসীরা ইন্দ্রের পুজো করতেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ এই প্রথা বন্ধ করে গোবর্ধন পর্বত ও প্রকৃতির পুজো করতে বলেন। এতে দেবরাজ ইন্দ্র (Lord Indra) ক্ষিপ্ত হয়ে বৃন্দাবন গ্রামকে ধ্বংস করার জন্য তুমুল বৃষ্টি শুরু করেন।গ্রামবাসীদের রক্ষা করতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর কনিষ্ঠ আঙুলে (little finger) গোবর্ধন পর্বতকে তুলে ধরেন এবং এর নিচে গ্রামবাসীদের আশ্রয় দেন। টানা সাত দিন ধরে তিনি পর্বতটিকে ধরে রাখেন, যা ইন্দ্রের অহংকার দূর করে। সেই থেকে এই দিনটিকে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং দৈব সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে গোবর্ধন পুজো হিসেবে পালন করা হয়।গোবর্ধন ও অন্নকূটএই উৎসবকে অন্নকূট উৎসব নামেও ডাকা হয়। ‘অন্নকূট’ শব্দের অর্থ হল ‘খাবারের পাহাড়’। এই দিনে কৃতজ্ঞতা ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ছাপ্পান্ন প্রকার (fifty-six types) পদ, যেমন বিভিন্ন ডাল, চাল, মিষ্টি, ফল এবং সবজি নিবেদন করা হয়।পূজাসামগ্রীভক্তরা এই পুজোর জন্য নিম্নলিখিত সামগ্রীগুলি প্রস্তুত করেন:প্রচলিত সামগ্রী: রোলি (সিঁদুর), অক্ষত (আস্ত চাল), বাতাসা, মিষ্টি, ক্ষীর এবং সরষের তেলের প্রদীপ।আরাধনার উপকরণ: ফুল, দই, মধু, ধূপকাঠি, এবং জল ভরা ঘট।বিশেষ সামগ্রী: জাফরান, ফুলের মালা, শ্রীকৃষ্ণের ছবি বা মূর্তি।মূল উপাদান: গোবর, গোবর্ধন পর্বতের ছবি, গঙ্গাজল, পান পাতা এবং গোবর্ধন পুজোর কাহিনীর বই।গুরুত্বপূর্ণ: এই দিন গরুকেও সমাজের ভিত্তি হিসেবে পুজো করা হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy