কয়লার উনুন কিংবা কাঠ-ঘুঁটে দিয়ে রান্নার সেইসব দিন এখন শেষের পথে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের উদ্যোগে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রান্নাঘরে পৌঁছে গিয়েছে এলপিজি গ্যাস। গত এগারো বছরে দেশে রান্নার গ্যাস ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির দিকে নজর দিলেই এই পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তুলনামূলক পরিসংখ্যান:
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেল (PPAC)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে গৃহস্থালির এলপিজি ব্যবহার ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে ৩১.৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনে (MMT) পৌঁছেছে।
২০১৩-১৪ সালে (মোদী সরকারের প্রথমবার শপথের সময়) এই ব্যবহার ছিল ১৬.৩ MMT।
২০০৪ সালে (যখন ইউপিএ সরকার গঠন হয়) ব্যবহার ছিল ১০.২ MMT।
অর্থাৎ, ইউপিএ-র দশ বছর শাসনকালে গৃহস্থালির এলপিজি ব্যবহার বেড়েছিল প্রায় ৬ MMT। সেখানে গত দশ বছরে গৃহস্থালির এলপিজি ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ১৫ MMT। এই হার ইউপিএ আমলের বৃদ্ধির তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি।
বৃদ্ধির মূল কারণ ‘উজ্জ্বলা যোজনা’:
গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’ (PMUY)-কে চিহ্নিত করেছেন।
দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা পরিবারগুলির মহিলাদের বিনামূল্যে এলপিজি সংযোগ দেওয়ার জন্য ২০১৬ সালের মে মাসে এই প্রকল্প চালু করা হয়। রান্নার জন্য কাঠ, কয়লা বা ঘুঁটে ব্যবহারের ফলে যে স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিত, তা দূর করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। শুধু বিনামূল্যে সংযোগই নয়, উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের প্রতি বছর ১২টি করে ১৪.২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারে ভর্তুকিও দেওয়া হয়। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপই মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারগুলির মধ্যে এলপিজি ব্যবহার নিশ্চিত করেছে।