‘গুলাবো সিতাবো’ থেকে ‘কিশোরী কিশোরী’! ইটিভি ভারতকে কী বললেন মিউজিক ডিরেক্টর রথীজিৎ ভট্টাচার্য?

রিয়ালিটি শোয়ের মঞ্চ থেকে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দীর্ঘ পথে লড়াই করে যারা নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছেন, রথীজিৎ ভট্টাচার্য (Rathijit Bhattacharjee) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৬ সালে ‘সারেগামাপা’-র প্রতিযোগী হিসেবে যাত্রা শুরু করে আজ তিনি মিউজিক ডিরেক্টর, মেন্টর এবং প্রযোজক—একই মঞ্চে ফিরে আসা তাঁর জন্য যেন এক বৃত্ত সম্পূর্ণ করা। ইটিভি ভারতের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই জার্নি, সাফল্যের কারণ এবং রিয়ালিটি শোয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন।
ইটিভি ভারত: আপনার জার্নিটা এই মঞ্চ থেকেই শুরু। আজ মেন্টর হিসেবে কী মনে হয়?
রথীজিৎ: “এই মঞ্চটা আমার কাছে খুব স্পেশাল। আমাকে অনেককিছু দিয়েছে। বাবা-মাও ভেবেছিলেন ছেলে এই শহরে থেকেই কিছু একটা করুক। সেই শুরু। বাকিটা তো সবই জানেন আপনারা।”
নবরত্নের বিচারক প্যানেল নিয়ে মন্তব্য: ‘সারেগামাপা’-র এবারকার নবরত্ন (নয় জন বিচারক) প্যানেল প্রসঙ্গে রথীজিৎ বলেন, “বড় জাজেস প্যানেল আমরা আগেও পেয়েছি। তবে এত বড় পাইনি। সবাই সবার এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করেন, নয় রকমের ডায়মেনশন পাওয়া যায়। এটা প্রতিযোগীদের জন্য ভালো। আমার মনে হয় নবরত্ন শো’টাকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।”
সাফল্যের পর কেন শিল্পীরা হারিয়ে যান? রিয়ালিটি শো থেকে খ্যাতি পাওয়ার পরও বহু প্রতিভাবান শিল্পীর হারিয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “একটা প্ল্যাটফর্মে গান গাওয়ার পর আরেকটা প্ল্যাটফর্ম রেডি হয়ে যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর জন্য লড়াই করতে হয়। আসলে ট্যালেন্ট অনুযায়ী কাজ নেই আমাদের এখানে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার কাজে নতুনদের সুযোগ দিই। আগামী দিনেও দিতে চাই। প্রতি বছর এই মঞ্চ থেকে আমরা ১২-১৩ জন আউটস্ট্যান্ডিং পারফর্মার পাই। এতজনকে কাজ দেবে কে? কিন্তু তারা হারিয়ে যায় তেমনটাও নয়। তারা চর্চা করে। অনেক সময়েই এমন হয়েছে যে বছর পাঁচেক পরে কারওর নতুন গান শুনতে পেয়েছি। সুতরাং লড়াই জারি রাখে সবাই, এটুকু বলতে পারি।”
বর্তমান প্রতিযোগীদের নিয়ে অভিজ্ঞতা: এবারের প্রতিযোগীরা কতটা প্রতিভাধর? এই প্রশ্নের জবাবে রথীজিৎ বলেন, “প্রত্যেকে ট্যালেন্টেড। একটা জিনিস প্রতি সিজনেই দেখি যে, আগেরবারের থেকে পরেরবারের প্রতিযোগীরা অনেক স্মার্ট হয়। আসলে ছোট থেকেই ওরা এই শো দেখে বড় হয়। ফলে বড় স্টেজ, বড় মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট ওরা খুব তাড়াতাড়ি রপ্ত করে ফেলে। এগুলো প্রতিবারই অনুভব করি।”
রথীজিৎ আজ শুধু বাংলা বিনোদন দুনিয়ার নন, অমিতাভ বচ্চনের ‘গুলাবো সিতাবো’ ছবির মিউজিক প্রোডিউসার ও অ্যারেঞ্জার তিনি। তাঁর সৃষ্টি সাম্প্রতিক সময়ে হিট ‘কিশোরী কিশোরী’।