গালওয়ান সংঘাতের বরফ গলে গেল? মোদী-জিনপিং বৈঠকের পর বিমান চালুর সিদ্ধান্ত, এবার কি ট্রাম্পের চাপ কাটবে চিনের?

কোভিড-১৯ অতিমারি এবং ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সামরিক সংঘাতের জেরে দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হতে চলেছে। বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, এই মাসের অক্টোবরের শেষের দিক থেকে সরাসরি বিমান যোগাযোগ শুরু হবে।
MEA স্পষ্ট জানিয়েছে, “সরাসরি বিমান পরিষেবাগুলি ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে পুনরায় চালু করা যেতে পারে। এই পুনঃসূচনা ভারত ও চিনের যোগাযোগকে আরও সহজতর করবে।” দিল্লি ও কলকাতা থেকে গুয়াংঝাউ শহর পর্যন্ত উড়ান চালু হতে চলেছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল এবং পরিবর্তনের কারণ
কেন্দ্রের তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ আলোচনার পরেই দুই দেশ এই ঐকমত্যে পৌঁছেছে। বিশেষ করে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠকের পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি বৈঠকের পর জানিয়েছিলেন, মোদী ও জিনপিং উভয়েই দেশের দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নিয়েছেন।
নতুন সম্পর্কের সংজ্ঞা: মিস্রি বলেন, “ভারত এবং চিন উভয়ই স্বীকার করেছে যে তাদের মূল লক্ষ্য অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন, তারা অংশীদার, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।”
ভূ-অর্থনৈতিক প্রভাব: ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির পর চিনের ওপর যে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং দুই দেশের স্থিতিশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ২.৮ বিলিয়ন মানুষের স্বার্থে জরুরি— এই বোধই বিমান পরিষেবা চালুর মূল কারণ।
ফ্লাইট সূচি এবং ইন্ডিগোর ভূমিকা
২০২০ সালের গোড়ার দিকে কোভিডের সময় বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়, এবং গালওয়ান সংঘর্ষের পর তা তলানিতে ঠেকে। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং ভারত গত মাসে চিনা নাগরিকদের ভিসা প্রদানও পুনরায় শুরু করেছে।
ইন্ডিগো (IndiGo) আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে কলকাতা এবং গুয়াংঝাউ (CAN) শহরের মধ্যে প্রতিদিনের নন-স্টপ ফ্লাইট পুনরায় চালু করবে।
শীঘ্রই দিল্লি এবং গুয়াংঝাউয়ের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ইন্ডিগোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পিটার এলবার্স বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি দুটির মধ্যে এই বিমান পরিষেবা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।