গান্ধী জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! ডাম্পারের ধাক্কায় প্রাণ হারালেন স্কুল শিক্ষিকা, আহত বহু পড়ুয়া

উত্তর প্রদেশের কানপুরে গান্ধী জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। শুক্রবার সকালে বিধানু থানা এলাকার হরবাসপুর গ্রামের কাছে কানপুর-সাগর মহাসড়কে চিমা পাবলিক স্কুল, ঘাটামপুরের একটি স্কুলবাসের সঙ্গে নুড়ি পাথর বোঝাই একটি দ্রুতগামী ডাম্পারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী বিজ্ঞান শিক্ষিকা ঐশ্বর্য শ্রীবাস্তব। পাশাপাশি, এই ঘটনায় ৩ জন ছাত্র ও ৩ জন শিক্ষকসহ আরও বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে। বাসচালক অর্জুনের বয়ান অনুযায়ী, সামনে একটি ডাম্পার আসার পর তিনি বাসটিকে রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নুড়িপাথর বোঝাই ভারী ডাম্পারটি পাশ থেকে সজোরে বাসটিকে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বাসের জানালার কাঁচ ভেঙে ভেতরে বসা কোমলমতি শিশু ও শিক্ষকদের গায়ে এসে পড়ে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র রৌনক ভার্মার চোখে কাঁচের টুকরো ঢুকে গুরুতর জখম হয় এবং আরও বেশ কয়েকজন শিশু মাথা ও ঘাড়ে মারাত্মক আঘাত পায়।
দুর্ঘটনার ঠিক পেছনেই নিজের গাড়িতে করে বাসটিকে অনুসরণ করছিলেন স্কুলের অধ্যক্ষ শুভাঙ্গী সিং। ভয়াবহ এই দৃশ্য দেখে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিধানু সিএইচসি-তে ছুটে যান। সেখানে শিক্ষিকা ঐশ্বর্যের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর শুনে তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হওয়া শিক্ষিকা অঞ্জু রিতা (৩৭) এবং শিক্ষক হিমাংশু যাদব (৩০)-কে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় গ্রামবাসীরা ধাওয়া করে ঘাতক ডাম্পার চালককে ধরে ফেলে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়। খবর পেয়ে বিধানু থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন দুটিকে বাজোপ্ত করে এবং পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আইনি তদন্ত শুরু করেছে। গান্ধী জয়ন্তীর আনন্দঘন দিনে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।