‘গাড়ি ঘোরার রাস্তা করল ৩ কিমি!’ ব্যারিকেড নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সজল ঘোষ, পুজো কমিটি বনাম কলকাতা পুলিশের সংঘাত চরমে!

দুর্গাপূজার মরসুমে শহরজুড়ে আনন্দের আবহ থাকলেও, তার মাঝেই ফের বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে কলকাতার প্রথম সারির পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারে। গত বছরও এই পুজো পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের কারণে শিরোনামে এসেছিল। এবারও প্রায় একই ছবি। এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা এবং বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, কলকাতা পুলিশ ‘প্রতিশোধস্পৃহা’ থেকে কাজ করছে এবং পরিকল্পনা করে এই পুজো ভণ্ডুল করার চেষ্টা করছে।
‘অমিত শাহের উদ্বোধনের পরই সমস্যার সূত্রপাত’
সজল ঘোষের মতে, গত শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই পুজো উদ্বোধন করার পর থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।
তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে নানা জটিলতা তৈরি করছে। আমরা পুলিশকে বলেছি, লিখিত নির্দেশ দিন, আমরা পুজো বন্ধ করব। কিন্তু তারা বলছে ‘চালানো যাবে না’, আবার বলছে ‘চালাতে দেওয়া হবে না নয়’। এর মানেটা কী?”
সজল ঘোষের অভিযোগ, মুচিপাড়া থানার পুলিশ পুজোর লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের দায়িত্বে থাকা সংস্থাকে নোটিস পাঠিয়েছে। ওই নোটিসে সংস্থার লাইসেন্স, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে চুক্তিপত্র, জিএসটি-সংক্রান্ত নথি এবং সাউন্ড লিমিট সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন, দুর্গাপূজার মতো উৎসব আয়োজন করতে হলে কি এইসব বাধার মুখোমুখি হতে হবে?
ব্যারিকেড ও সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়ে ক্ষোভ
এখানেই থামেননি সজল ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের এলাকায় নিযুক্ত সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে বসিয়ে দিয়েছে, কারণ পুলিশ মনে করছে ওই ভলান্টিয়াররা উদ্যোক্তাদের পক্ষ নেবেন।
পাশাপাশি, ব্যারিকেড নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। সজল ঘোষ বলেন, “সরকার-বিরোধী আন্দোলনের সময় যেমন বিশাল ব্যারিকেড বসানো হয়, এখানেও তেমনটা করা হয়েছে। ৪০ ফুটের রাস্তা গার্ডরেল দিয়ে সঙ্কুচিত করে ১৫ ফুট করা হয়েছে। এতে মানুষকে ৭০০ মিটার রাস্তা পার হতে গিয়ে তিন কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে।” তাঁর আশঙ্কা, দুর্ঘটনার অজুহাত তুলে উদ্যোক্তাদের দোষী সাব্যস্ত করার পরিকল্পনা চলছে।
পুলিশ কমিশনার ও তৃণমূলের সাফাই
অন্যদিকে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, “সবাই যাতে নিয়ম মেনে চলেন সেটাই দেখা হচ্ছে। জনগণের সুরক্ষার জন্য কোনও কিছুর সঙ্গে আপস নয়। প্রচুর মানুষের ভিড় হলে রিফেল এফেক্ট তৈরি হয়। সেই কারণে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। আমাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, সাধারণ মানুষের সেফটি।”
শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেছেন, “এটা নিছক সস্তার জনপ্রিয়তার রাজনীতি। পুজো হিট করাতে গেলে বিতর্ক তৈরি করো। পুলিশ কাউকে পুজো বন্ধ করতে বলেনি। কেবল প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে। যদি লাইটিং এজেন্সির কাগজ ঠিক না থাকে, দুর্ঘটনা হলে দায় নেবে কে?”
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিতর্কের মূল কারণ আসলে সজল ঘোষের রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি বিজেপির কাউন্সিলর হওয়ার কারণেই প্রশাসন তাঁকে লক্ষ্য করছে কি না, সেই প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে। উদ্যোক্তাদের ক্ষোভ আর পুলিশের সাফাইয়ের মাঝে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, কলকাতার দুর্গাপূজার উৎসব কি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অঙ্গ হয়ে উঠছে?