উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে বহুতল আবাসন থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিন বোনের মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে এল হাড়হিম করা তথ্য। গত বুধবার রাতে ৯ তলা থেকে ১৬, ১৪ ও ১২ বছরের তিন কিশোরীর ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাটি প্রাথমিকভাব অনলাইন গেমের আসক্তি মনে করা হলেও, পুলিশের তদন্তের অভিমুখ এখন ঘুরছে তাদের বাবা চেতন কুমারের দিকে। তদন্তে জানা গিয়েছে, চেতন কুমারের ব্যক্তিগত জীবন কোনও থ্রিলার সিনেমার চেয়ে কম কিছু নয়।
তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, চেতন কুমারের বর্তমানে তিনজন স্ত্রী আছেন— সুজাতা, হীনা ও টিনা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই তিনজনই সম্পর্কে একে অপরের বোন এবং তারা সবাই একই সঙ্গে থাকতেন। এখানেই শেষ নয়, ২০১৫ সালে সাহিবাবাদে এক মহিলার রহস্যজনক মৃত্যুর সঙ্গেও চেতনের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। দুই স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সেই সময় এক মহিলার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন চেতন। পরে সেই মহিলা ছাদ থেকে পড়ে মারা যান, যা আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, পরিবারের এই অস্বাভাবিক পরিবেশ কি ওই তিন কিশোরীর (নিশিকা, প্রাচী ও পাখি) ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল? যদিও পরিবারের দাবি, অনলাইনে কোরিয়ান গেম খেলার আসক্তি ছিল মেয়েদের। ঘটনার রাতে ফোন কেড়ে নেওয়ায় তারা ঘরের দরজা বন্ধ করে একে একে বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেয়। রাত ২টো ১৫ নাগাদ প্রবল শব্দে প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে গেলে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তিন বোন। লোনির হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। গেমের আসক্তি নাকি বাবার অতীত পাপের ফল— এই দুই সমীকরণ মেলাতেই এখন মরিয়া গাজিয়াবাদ পুলিশ।