গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের স্বস্তি ফিরল না! মিলল না জামিন, ১৬ মে পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে বাংলা পক্ষের নেতাকে

আইনি জটিলতা যেন পিছু ছাড়ছে না বাংলা পক্ষের অন্যতম প্রধান মুখ গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের। আদালতের কাছে জামিনের আর্জি জানালেও শেষ পর্যন্ত তা খারিজ হয়ে গেল। বদলে ১৬ মে পর্যন্ত তাঁকে পুলিশ হেফাজতেই থাকার নির্দেশ দিলেন বিচারক। এই নির্দেশের ফলে আপাতত গরাদের ওপারেই দিন কাটতে চলেছে তাঁর।

আদালতে কী ঘটল? সম্প্রতি একটি নির্দিষ্ট মামলায় পুলিশি গ্রেফতারির পর গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর আইনজীবীরা শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে জামিনের জোরালো সওয়াল করলেও, সরকারি পক্ষ তার তীব্র বিরোধিতা করে। মামলার গুরুত্ব এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে দাবি জানায় পুলিশ। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত জামিন নাকচ করে দিয়ে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

কেন এই আইনি ফাঁস? গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ঠিক কী কারণে এই আইনি পদক্ষেপ, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে গোপনীয়তা বজায় রাখা হলেও সূত্রের খবর, তাঁর বেশ কিছু মন্তব্য বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল। এখন পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন তাঁকে নতুন করে কোন কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, সেটাই দেখার।

বাংলা পক্ষের প্রতিক্রিয়া: গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের এই গ্রেফতারি ও হেফাজতের নির্দেশের পর থেকে বাংলা পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখন বিচারাধীন হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

তদন্তের পরবর্তী ধাপ: পুলিশ সূত্রের খবর, ১৬ মে পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার বাকি তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হবে। ১৬ মে পুনরায় তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে এবং সেদিনই জানা যাবে তাঁর পরবর্তী ঠিকানা জেল হেফাজত নাকি জামিন। আপাতত রাজ্য রাজনীতির নজর এখন ১৬ মে-র আদালতের নির্দেশের দিকে।

ডেইলহান্ট (DailyHunt) বিশেষ প্রতিবেদন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy