গরুর পেট থেকে বের হলো ৪০ কেজি প্লাস্টিক! দূষণ নিয়ে ফের ভাবাচ্ছে ওড়িশার এই ঘটনা

স্তায় ফেলা প্লাস্টিক যে কতটা বিপদ ডেকে আনছে, তার আরও একটি মর্মান্তিক প্রমাণ পাওয়া গেল ওড়িশার গঞ্জাম জেলায়। সেখানকার একটি ভবঘুরে গরুর পেট থেকে অস্ত্রোপচারের পর প্রায় ৪০ কেজি প্লাস্টিক এবং অন্যান্য অপাচ্য বর্জ্য উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার সরকারি পশু হাসপাতালে পাঁচ বছর বয়সী গরুটির ওপর দীর্ঘ তিন ঘণ্টার অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসক সত্যনারায়ণ কর এই অপারেশনে নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, রাস্তায় ফেলে দেওয়া খাবারের সঙ্গে গরুগুলো প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে, যার ফলে তাদের অন্ত্রে মারাত্মক জটিলতা তৈরি হয়। সময় মতো চিকিৎসা না হলে গরুটি মারা যেতে পারত। আপাতত গরুটি বিপদমুক্ত এবং তাকে এক সপ্তাহ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

হিলপাটনা এলাকা থেকে গত রবিবার ওই গরুটি হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সে কয়েকদিন ধরে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, মল-মূত্রত্যাগে অসুবিধা এবং পেটে লাথি মারার মতো অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। প্রাথমিক চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হওয়ায় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর পরিবেশকর্মীরা স্থানীয় প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত বছরও একই হাসপাতালে আরেকটি গরুর পেট থেকে ৩০ কেজি প্লাজিটিক উদ্ধার করা হয়েছিল। পরিবেশকর্মী সুধীর রাউত বলেন, বেরহামপুর পুরসভায় প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হলেও সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হচ্ছে না। তিনি এই আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করার আহ্বান জানান। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, পরিবেশ দূষণ এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।