উত্তরাখণ্ডের চকরাতা অঞ্চলের একটি শান্ত আদিবাসী গ্রাম কান্ডার-এ সোনা এখন আলোচনার কেন্দ্রে—এবং তা বেশ বিতর্কিতভাবেই। গ্রামের পঞ্চায়েত একটি নতুন নিয়ম পাস করেছে যেখানে মহিলাদের বিয়ে এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে মাত্র তিনটি সোনার গয়না পরার সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে: একটি মঙ্গলসূত্র, একটি নাকের নথ/নাকফুল এবং এক জোড়া কানের দুল/বালি।
কেউ এই সীমা লঙ্ঘন করলে তাকে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
এই অস্বাভাবিক সিদ্ধান্তটি এসেছে একটি বাস্তব উদ্বেগ থেকে—সম্পদ প্রদর্শনের জন্য বেড়ে চলা সামাজিক চাপ এবং এর ফলে দরিদ্র পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া বোঝা কমাতেই এই পদক্ষেপ।
‘আমরা সাধারণ জীবন যাপন করি। এটি সঠিক সিদ্ধান্ত’ ৮০ বছর বয়সী উমা দেবী-র জন্য, এই নতুন নিয়মটি কোনো বিধিনিষেধের বদলে স্বস্তি নিয়ে এসেছে। তিনি একটি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, “আমাদের বেশিরভাগই এখানে গরিব এবং আমরা সাধারণ জীবন যাপন করি। আমি বিশ্বাস করি পঞ্চায়েত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
গ্রামবাসীরা জানান, প্রায় দুই দশক আগে যখন কিছু যুবক সরকারি চাকরি পান, তখন থেকেই ভারী সোনার গয়না পরার প্রবণতা শুরু হয়। আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ার সাথে সাথে একটি নতুন সামাজিক প্রতিযোগিতা জন্ম নেয়—কনে এবং অতিথিরা ১৮০-২০০ গ্রাম ওজনের সোনার সেট পরতে শুরু করেন, যার বর্তমান বাজার মূল্য ২০ লক্ষ টাকারও বেশি। শীঘ্রই, জমকালো গয়নাগুলি সম্মানের প্রতীক হয়ে ওঠে, এবং যারা তা বহন করতে পারতেন না, তারা নিজেদের ব্রাত্য বা লজ্জিত মনে করতেন।
একজন গ্রামবাসী বলেন, “মহিলারা কতটা সোনা পরেছে, মানুষ তা দেখে একটি পরিবারের সম্মান বিচার করা শুরু করল। এটা আর ঐতিহ্য রইল না, শুধু লোক দেখানোর বিষয়ে পরিণত হলো।”
‘যদি আমরা সোনা নিষিদ্ধ করতে পারি, তবে হুইস্কিও নিষিদ্ধ করতে পারি’ এই সংযম নিয়ে আলোচনা শুধু গয়নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আরেক বাসিন্দা তুলসা দেবী বলেন, পঞ্চায়েতের উচিত এখন সামাজিক অনুষ্ঠানে দামি বিদেশি মদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
তিনি বলেন, “আমরা আগে বিয়ের জন্য অল্প পরিমাণে স্থানীয় পানীয় তৈরি করতাম। এখন সবাই ব্র্যান্ডেড হুইস্কি চায়। এটা একটা মর্যাদার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং একটি বোঝা।”
‘সামাজিক সংস্কারের শুরু’ এই প্রস্তাবটি তৈরি করতে সাহায্যকারী পঞ্চায়েত সদস্যদের একজন তিলক সিং বলেন, এই উদ্যোগের মূল ধারণা হলো গ্রামের জীবনে সরলতা এবং সমতা ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, “এটা কেবল শুরু। আমরা অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে এবং বিনয়-কে উৎসাহিত করতে চাই। এরপরে আরও এমন সংস্কার আসবে।”





