স্বাস্থ্যসাথিতে কোটির কোটির কারচুপি? ক্যাগের রিপোর্টে ফুটল মারাত্মক দুর্নীতির ছিদ্র!

এবার রাজ্যের অন্যতম ড্রিম প্রজেক্ট ‘স্বাস্থ্যসাথি’ ঘিরে তৈরি হলো বড়সর বিতর্কের মেঘ। তৃণমূল কংগ্রেস জমানার এই জনপ্রিয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পটি নিয়ে এবার সরাসরি প্রশ্ন উঠে গেল মহালেখা নিয়ন্ত্রক ও পরীক্ষক বা সিএজি-র (CAG) অডিট রিপোর্টে। অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রণের মারাত্মক ঘাটতি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সিএজি-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, স্বাস্থ্যসাথি প্রকল্পে হাসপাতালগুলোর গ্রেডিং এবং প্যাকেজ নির্ধারণে বড় মাপের অসঙ্গতি রয়েছে। অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, অনেক হাসপাতালকে ভুল বা নিয়মবহির্ভূত গ্রেডে ফেলে বাড়তি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ভুল গ্রেডিংয়ের কারণে অতিরিক্ত প্রায় ১৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা মেটানো হয়েছে বলে রিপোর্টে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু হাসপাতালের গ্রেডিংয়েই শেষ নয়, স্বাস্থ্যসাথি চালুর মূল চার কাঠামোর প্রতিটি স্তরেই অনিয়মের মারাত্মক চিহ্ন মিলেছে:

  • সুবিধাভোগী চিহ্নিতকরণ: যোগ্য ও আসল সুবিধাভোগী বাছাইয়ে গাফিলতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

  • অযোগ্য ও ডুপ্লিকেট কার্ড: ভূয়ো বা একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড তৈরি হওয়া রোখা সম্ভব হয়নি।

  • আধার যাচাইয়ের অভাব: সুবিধাভোগীদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার প্রক্রিয়াভুক্তিকরণে বড় ফাঁক থেকে গেছে।

  • প্যাকেজ রেটে কারচুপি: হাসপাতালের মান বিচার না করেই ইচ্ছামতো বেশি রেটের প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয়েছে।

রাজ্যের গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার তাগিদে যে মেগা প্রকল্প চালু করা হয়েছিল, সেখানে কোটি কোটি টাকার এই ঘাটতি ও অনিয়ম কীভাবে দীর্ঘদিন নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়েই এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অলিন্দে জোর চর্চা। ক্যাগের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির।