গণপিটুনিতে মৃত্যু, রাস্তায় দেহ! বারুইপুর-কাণ্ডে এবার নবান্ন অভিযানের ডাক বামপন্থীদের

বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় কার্যত অগ্নিগর্ভ দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আগামী ৬ ও ৭ জুলাই রাজ্যজুড়ে বড়সড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বামপন্থী সংগঠনগুলি।
কী ঘটেছিল বারুইপুরে? শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয় ওই নাবালিকা। পরে রবিবার বারুইপুর থানা এলাকা থেকে তার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, চার ব্যক্তি তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুন করেছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই রবিবার সকাল থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। উত্তেজিত জনতা দেহ আটকে বিক্ষোভ দেখায়। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে, স্থানীয়দের গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। অপর একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে চরম নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা এবং বিরোধী বাম নেতৃত্ব। সিপিএম নেতা লায়েক আলির দাবি, এলাকার মানুষ কয়েকজন অভিযুক্তকে ধরে পুলিশের ক্যাম্পে তুলে দিয়েছিল। কিন্তু এলাকার এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের নির্দেশে পুলিশ সেই অভিযুক্তদের ছেড়ে দেয়। লায়েক আলির হুঁশিয়ারি, “আইন যদি দোষীদের ফাঁসির সাজা দেয়, তবে শান্তনু মণ্ডলকেও একই সাজা পেতে হবে।”
বামদের পরবর্তী পদক্ষেপ এই ঘটনার প্রতিবাদে ডিওয়াইএফআই (DYFI) এবং এসইউসিআইসি (SUCI) ছাত্র সংগঠন এইডিএসও (AIDSO) আগামী দুই দিন রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে। এইডিএসও-এর রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, “আরজি কর আন্দোলনের দিনগুলোকে স্মরণ করে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী লড়াই গড়ে তুলতে হবে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আমরা রাজপথ দখল করব।”
রাজনৈতিক বিতর্ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভার ভাষণের সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই বলে অভিযোগ তুলেছে বামেরা। তাদের প্রশ্ন, দলের কার্যকর্তারা আইন হাতে তুলে নিচ্ছেন, আর পুলিশ দর্শকের ভূমিকা পালন করছে—এটাই কি রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা?
পুলিশ প্রশাসন ঘটনার সত্যতা ও শান্তনু মণ্ডলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে বারুইপুরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে।