খোলা ড্রেনে বিরিয়ানি রান্না থেকে হলুদে বিষ! খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহে ১৭টি হোটেল সিলের পর কী বলছে প্রশাসন?

সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ, যা চলবে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু এই অভিযানের প্রথম তিন দিনের মাথাতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে, তা রীতিমতো শিহরিত করার মতো। যত্রতত্র ভেজালের রমরমা রুখতে কোমর বেঁধে পথে নেমেছে প্রশাসন। প্রথম তিন দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে মোট ১৭টি হোটেল এবং রেস্তোরাঁ সিল করে দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে এই আপস কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য সুরক্ষা দফতরের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যজুড়ে মোট ২,৩৩৭টি খাবারের দোকানে পরিদর্শন চালিয়েছেন আধিকারিকরা। এর মধ্যে ২,০৫৬টি জায়গাতেই বড়সড় অনিয়ম ধরা পড়েছে। পরিদর্শিত অধিকাংশ দোকানেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ বা নিয়মের অভাব স্পষ্ট ছিল। পরিস্থিতি শোধরাতে ২,০৩৯টি ক্ষেত্রে সংশোধনী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যের গুণমান যাচাইয়ের জন্য মোট ১,২৭৭টি নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি না-মানায় ১৬টি দোকানে খাবার বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বাতিল বা সাসপেন্ড করা হয়েছে ৫টি লাইসেন্স। পাশাপাশি, ১৭ জন বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও শুরু হয়েছে। কেবল কলকাতাতেই বিগত ৩ দিনে ৭০০ কেজির বেশি ক্ষতিকারক কাঁচামাল নষ্ট করা হয়েছে।

অভিযানের সময় বিভিন্ন জায়গায় এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে। কোথাও নর্দমার উপর খোলা আকাশে চলছে রান্না, তো কোথাও আবার মশলার মধ্যে মেশানো হচ্ছে বিষাক্ত রাসায়নিক। মালদার একটি নামী বিরিয়ানির দোকানে হানা দিয়ে আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠে; দেখা যায়, রীতিমতো খোলা ড্রেনের উপর বসে চলছে হায়দরাবাদি বিরিয়ানি রান্না, আর ওই দোকানের বৈধ এফএসএসএআই (FSSAI) লাইসেন্সও ছিল না। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের একটি দোকানে হানা দিয়ে দেখা যায়, হলুদ গুঁড়োর মধ্যে মেটানিল ইয়েলো নামের বিষাক্ত রং মেশানো হচ্ছে। অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং লাইসেন্স না-থাকার কারণে ওই দোকানটিকে সিল করে দিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া হুগলি, নদীয়া এবং পশ্চিম বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক নামী হোটেল, পানীয় জল প্রস্তুতকারক সংস্থা এবং কেক তৈরির কারখানায় হানা দিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে স্পটেই খাদ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ বিশেষ সপ্তাহ পালনের সময় যেমন সক্রিয়তা দেখাচ্ছে, বছরের বাকি দিনগুলিতেও কি সেই কড়া নজরদারি একইভাবে বজায় থাকবে?