ওষুধ ছাড়াই সুচ ফুটিয়েই মুশকিল আসান! কোন জাদুকরী চিকিৎসায় মিলছে দীর্ঘদিনের রোগমুক্তি?

বর্তমান যুগে আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতির দিকে বিশ্বজুড়ে মানুষের আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে কোনও রকম ওষুধের প্রয়োগ ছাড়া এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত উপায়ে রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ‘আকুপাংচার’ এক যুগান্তকারী নাম। এটি একটি প্রাচীন চিনা চিকিৎসা পদ্ধতি, যা বর্তমান সময়ে সারা পৃথিবী জুড়ে প্রয়োগ করে বিভিন্ন রোগ থেকে সুস্থ হচ্ছেন মানুষ। হাওড়ার মৌরিগ্রাম স্টেশন সংলগ্ন আকুপাংচার চিকিৎসাকেন্দ্রে বহু মানুষ এই চিকিৎসা গ্রহণ করে বিভিন্ন জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। ইন্ডিয়ান রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিন (IRIIM)-এর পরিচালক এবং আকুপাংচার চিকিৎসা বিভাগের প্রধান ডঃ দেবাশিস এই পদ্ধতির বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি ও কার্যকারিতা তুলে ধরেছেন।
প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন চিনে এই চিকিৎসা পদ্ধতির উৎপত্তি হয়। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর স্বীকৃতি এবং বিজ্ঞানসম্মত গবেষণার পর এই প্রাচ্য চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে জনপ্রিয়তা পায়। আকুপাংচার চিকিৎসার প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এতে বাইরের কোনও রাসায়নিক ওষুধ শরীরে প্রবেশ করানো হয় না। আমাদের শরীর নিজস্ব ক্ষমতার ওপর নির্ভর করেই রোগমুক্ত হয়। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হল মানবদেহের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। শরীরের প্রাণশক্তি, রক্তপ্রবাহ এবং দেহরসের সামঞ্জস্য বজায় রেখে রোগীর স্বাভাবিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনা হয়।
চিকিৎসার সময় শরীরের নির্দিষ্ট কিছু ‘আকু-বিন্দু’ চিহ্নিত করা হয় এবং অতিসূক্ষ্ম মাথার চুলের মতো পাতলা সূঁচ সেখানে প্রবেশ করানো হয়। সূঁচ ফোটানোর সময় সামান্য অনুভূতির পর মৃদু শিহরণ বা ঝিনঝিন ভাব অনুভূত হয়, যা স্নায়ু ও রক্ত সঞ্চালনাকে জাগ্রত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর স্বীকৃতি অনুযায়ী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ধরনের জটিল ও কঠিন রোগের নিরাময়ে আকুপাংচার অত্যন্ত সফল। ক্রনিক বা দীর্ঘদিনের যে কোনও শারীরিক ব্যথা, হাঁটু ও কোমর ব্যথা, হাঁপানি, পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিস, উচ্চ রক্তচাপ, মাইগ্রেন এবং অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আকুপাংচার উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।