উর্দিধারীরাই নামছে মারতে! যন্তর মন্তরে পুলিশি তাণ্ডব দেখে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির চরম ক্ষোভ

নিট আন্দোলনের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন দমনে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা এবং মারমুখী আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার যশবর্ধন আজাদের লেখা ‘পোলিসিং দ্য রিপাবলিক’ শীর্ষক বইটির উন্মোচন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাম্প্রতিক পুলিশি তাণ্ডব নিয়ে অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেন তিনি। বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত তরুণ ও পদস্থ আইপিএস আধিকারিকেরা যেভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদী আন্দোলনকারীদের গায়ে হাত তুলছেন এবং মারধর করছেন, তা দেখা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগের বিষয়। একজন পুলিশ আধিকারিকের থেকে যে ধরনের পেশাদারি নিরপেক্ষতা ও সংযম আশা করা হয়, তা আজ সমাজ থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতি ভূঞা জানান, একটি সভ্য গণতান্ত্রিক সমাজে হেফাজতে রেখে নির্যাতন করা বা হেফাজতে মৃত্যু হলো অন্যতম জঘন্যতম অপরাধ। তিনি কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আইনের শাসন দ্বারা পরিচালিত একটি সমাজে হেফাজতে মৃত্যুর চেয়ে বড় অপরাধ আর কিছু হতে পারে না। তদন্তের নামে বা জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে যেকোনো ধরনের অমানবিক নির্যাতন সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।” একই সঙ্গে তথাকথিত ভুয়ো এনকাউন্টার বা সাজানো গুলির সংস্কৃতিকে সরাসরি একটি অপরাধমূলক মানসিকতা বলে অভিহিত করেন তিনি। বিচারপতির স্পষ্ট বার্তা, সরকারের প্রতিনিধিরা বা উর্দিতে থাকা আধিকারিকেরা যদি নিজেরা আইন ভাঙতে শুরু করেন, তবে সাধারণ মানুষের মনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা চিরতরে মুছে যাবে এবং দেশে চরম নৈরাজ্য নেমে আসবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ ও সংসদ ভবন অভিযান দমনে দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিষয়টি গড়ায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। ছাত্র পেটানোর এই ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখবে। সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাস্থল অর্থাৎ পুলিশ বাহিনীর ওপর যাতে জনগণের আস্থা অটুট থাকে, সেই বিষয়েও বিশেষ জোর দিয়েছেন বিচারপতি।