বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে এবার সবথেকে বড় মোড়। দীর্ঘ টালবাহানা আর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) প্রকাশ করল ২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ওএমআর (OMR) শিট। আর এই ঘটনাকে ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বিশেষ করে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে কমিশনের এই ‘সক্রিয়তা’ দেখে ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন— তবে কি এবার সত্য়িই সত্যিটা সামনে আসতে চলেছে?
২২ লক্ষ ওএমআর শিট জনসমক্ষে: কমিশন সূত্রে খবর, নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশের প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ওএমআর শিট তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। এতদিন যা ছিল স্রেফ সিবিআই-এর হার্ডড্রাইভে বন্দি, তা এখন সাধারণ মানুষের নাগালে। এর ফলে কারা কারচুপি করে চাকরি পেয়েছিলেন এবং কারা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বঞ্চিত ছিলেন, তা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুভেন্দুকে কৃতজ্ঞতা চাকরিহারাদের: এই ঘটনায় সবথেকে বেশি চমক দিয়েছে চাকরিহারাদের প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘদিন ধরে যারা রাজপথে লড়াই করছেন, তাদের একাংশ এই ওএমআর প্রকাশের কৃতিত্ব দিচ্ছেন রাজ্যের দাপুটে নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শুভেন্দুর লাগাতার আইনি লড়াই এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দেওয়া তথ্যের চাপেই আজ দুর্নীতিগ্রস্তদের মুখোশ খুলে যাচ্ছে। “শুভেন্দু বাবু পাশে না দাঁড়ালে হয়তো এই অন্ধকার কোনোদিন কাটত না,”— এমনটাই শোনা গেল জনৈক চাকরিপ্রার্থীর গলায়।
ভোল বদল নাকি আইনি বাধ্যবাধকতা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে রদবদল বা সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিতেই হয়তো খোলস ছাড়তে শুরু করেছে কমিশন। এতদিন যারা ওএমআর শিট ‘নষ্ট হয়ে গেছে’ বলে আদালতে হলফনামা দিচ্ছিল, তারা হঠাৎ কীভাবে সব তথ্য সামনে আনল— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে শাসক শিবিরও।
তবে কারণ যাই হোক, এই ওএমআর শিট প্রকাশ যে যোগ্য প্রার্থীদের মনে নতুন করে আশার আলো জাগিয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার, এই তালিকার ভিত্তিতে কতজন ভুয়া শিক্ষক ধরা পড়েন এবং যোগ্যরা কবে নিজেদের অধিকার ফিরে পান।





