খোদ মুখ্যমন্ত্রী ও শুভেন্দু অধিকারীর ওপর নজরদারির চাঞ্চল্যকর তথ্য! বর্ধমান থেকে আইএসআই-যুক্ত জঙ্গি গ্রেফতার

রাজ্যজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করে শুক্রবার বর্ধমান শহরের একটি অভিজাত আবাসন থেকে হামিম মণ্ডল নামক এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গোয়েন্দা ও এসটিএফ সূত্রে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, ধৃত হামিমের সঙ্গে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী শাহজাদ ভাট এবং খোদ পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সরাসরি গভীর যোগাযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুধু সাধারণ নাশকতাই নয়, খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি বা লোকেশন সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যও এই ধৃত জঙ্গির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রের আরও দাবি, দুবাইয়ে লুকিয়ে থাকা আইএসআই-এর এক শীর্ষ সদস্যকে সরাসরি মেসেজ করে হামিম জানতে চেয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি বা মুভমেন্ট নিয়মিত অনুসরণ করা হবে কি না। এই গোপন বার্তার সূত্র ধরেই অত্যন্ত নিখুঁত ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এসটিএফের গোয়েন্দারা অভিযুক্তের নাগালে পৌঁছান। এই অভূতপূর্ব ও স্পর্শকাতর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সংযত সুরে জানিয়েছেন, “এখন এটা নিয়ে আমার অন্তত কিছু বলা উচিত নয়। এটা STF বিশদে বলবে। আজকে পিসি নেবে বর্ধমানে। তারপর তাদের কাছে এলে, তারা আরও ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোকে অ্যাসেসমেন্ট করতে হবে। এটা তো ন্যাশনাল সিকিউরিটি। আমার একার কথা নয়।” অন্যদিকে, বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন যে, এই ধরনের মারাত্মক আশঙ্কার কথা তিন মাস আগেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের তরফে তাঁদের জানানো হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত সরকারের সিক্রেট সার্ভিস তাঁদের আগেই এ বিষয়ে অ্যালার্ট করেছিল যে, বাংলাদেশ অথবা পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে বিরাট জঙ্গিগোষ্ঠী ভারতে প্রবেশ করেছে এবং তারা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করছে।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন যে, শুধু মুখ্যমন্ত্রী নন, এই চক্রের প্রধান নিশানায় আরও অনেকে ছিলেন। তৃণমূল জমানার পরোক্ষ প্রশ্রয়ে রাজ্যটি জঙ্গিদের সেফ করিডর হয়ে উঠেছিল বলে তাঁর অভিযোগ। পাল্টা জবাবে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এ ধরনের ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক রং না দেখে অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, জঙ্গিরা শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ক্ষতি নয়, রাজ্যে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও গোটা ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে অভিহিত করেছেন।
অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা ব্রিগেডিয়ার দেবাশিস দাস বর্তমান সীমান্ত পরিস্থিতি, পার্শ্ববর্তী দেশের প্রসঙ্গ এবং ভিভিআইপিদের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে এই ঘটনার ভয়াবহতার দিকটি স্পষ্ট করেছেন। বর্তমানে ধৃত হামিম মণ্ডলকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তার সমস্ত গোপন যোগাযোগ, স্লিপার সেল ও নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বের করতে ম্যারাথন জেরা চালিয়ে যাচ্ছেন তদন্তকারীরা।