বাংলার রাজনীতিতে এর আগে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED), আর অন্যদিকে রাজ্যের স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা ঘিরে পরিস্থিতি এবার পৌঁছাল থানার দোরগোড়ায়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বিরুদ্ধে কলকাতার শেক্সপিয়ার সরণি থানায় দায়ের করা হলো দুটি পৃথক এফআইআর (FIR)। যার মধ্যে একটি স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে!
মমতার অভিযোগ: ‘তদন্ত নয়, এ তো ডাকাতি!’
দলীয় সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে ইডি-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগের তালিকায় রয়েছে অত্যন্ত গুরুতর ধারা:
চুরি ও বেআইনি প্রবেশ: বিনা অনুমতিতে বা বেআইনিভাবে প্রবেশের (ক্রিমিনাল ট্রেসপাস) অভিযোগ।
ডিজিটাল তথ্য চুরি: আইপ্যাকের ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক এবং ফোন থেকে দলের গোপন নির্বাচনী কৌশল ও তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল এবং রাজ্যে চলমান ‘এসআইআর’ (SIR) সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য ইডি ‘ট্রান্সফার’ বা পাচার করে দিয়েছে। মমতা সরাসরি একে ‘ক্রাইম’ বা অপরাধ বলে দেগে দিয়েছেন।
পুলিশের ‘সুয়ো মোটো’ এফআইআর: কী আছে সেখানে?
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ছাড়াও পুলিশ নিজে থেকে (Suo Moto) আরও একটি এফআইআর দায়ের করেছে। সেখানে অভিযোগ তোলা হয়েছে: ১. সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া। ২. পুলিশ বা সরকারি আধিকারিকদের বেআইনিভাবে আটকে রাখা।
মাস্টারস্ট্রোক নাকি আইনি ফাঁক?
আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুই এফআইআর-এই কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ইডি আধিকারিকের নাম নেওয়া হয়নি। পরিবর্তে অভিযুক্ত হিসেবে লেখা হয়েছে ‘অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্দিষ্ট নাম না দিয়ে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ শব্দ ব্যবহার করার পেছনে বড় কোনো আইনি কৌশল থাকতে পারে।
সেক্টর ফাইভের সেই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আইপ্যাক অফিসে বসেই জরুরি বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। শীর্ষ আমলাদের সঙ্গে আলোচনার পরেই ইডি-র বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন মমতা।