২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন এবং শক্তিশালী মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলল। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ নেতা হুমায়ুন কবীর এবং আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল ‘মিম’ (AIMIM)-এর মধ্যে গড়ে ওঠা সম্ভাব্য জোট এখন বঙ্গ রাজনীতির হট টপিক। বহরমপুরের মাটি থেকে এই জোটের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে রাজ্যের ১৮২টি বিধানসভা আসন। যেখানে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কই হবে জয়ের মূল চাবি।
বুধবার বহরমপুরে এক বিশাল জনসভা থেকে হুমায়ুন কবীর এবং মিম নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলার মুসলিম ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ভোট আর কোনও একটি বিশেষ দলের ‘জমিদারি’ হয়ে থাকবে না। হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, রাজ্যের ১৮২টি আসনে সংখ্যালঘু ভোটারদের সংখ্যা এতটাই নির্ণায়ক যে, সেখানে সঠিক রণকৌশল নিলে যে কোনও বড় শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো এই বিপুল পরিমাণ সংখ্যালঘু ভোটকে সুসংহত করে বিধানসভায় নিজেদের প্রতিনিধি পাঠানো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। গত বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট কার্যত একতরফাভাবে ঘাসফুল শিবিরের দিকে গেলেও, এবার পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। হুমায়ুন-ওয়েইসি জোটের এই মুভমেন্ট যদি সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলো যেমন— মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরে সফল হয়, তবে ভোটের ফল বদলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। এখন দেখার, এই ১৮২টি আসনের লক্ষ্য পূরণ করে হুমায়ুন-ওয়েইসি জোট ২০২৬-এ বাংলার কিং-মেকার হয়ে উঠতে পারে কি না।