সমাজের বুক কাঁপানো এক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল শান্ত গ্রাম। রূপকথার গল্পের রাক্ষস বা সিনেমার ভয়ংকর দৃশ্যকেও হার মানাল বাস্তবের এক পিশাচ। এক কিশোরকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে খুন করার পর তার দেহ থেকে মাংস ছিঁড়ে খাওয়া এবং রক্তপানের মতো হাড়হিম করা অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই পৈশাচিক দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত এবং আতঙ্কিত গোটা এলাকা।
ঘটনার সূত্রপাত আচমকাই। গ্রামবাসীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি অতর্কিতে ওই কিশোরের ওপর হাতুড়ি নিয়ে চড়াও হয়। মাথায় ও শরীরে এলোপাথাড়ি হাতুড়ির ঘায়ে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কিশোরটি। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়, এরপর যা ঘটল তা দেখে উপস্থিত জনতার রক্ত হিম হয়ে যায়। অভিযোগ, মৃতপ্রায় কিশোরের শরীর থেকে মাংস খুবলে নিয়ে খেতে শুরু করে ওই ব্যক্তি এবং ক্ষতস্থান থেকে চুইয়ে পড়া রক্ত পান করতে থাকে।
ততক্ষণে গ্রামের মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে রুখে দাঁড়ায়। উন্মত্ত ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত ব্যক্তি মারাত্মক মানসিক বিকারগ্রস্ত হতে পারে অথবা কোনো তান্ত্রিক অভিচারের বশবর্তী হয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। কিশোরের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে শ্মশানের নিস্তব্ধতা, মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—মানুষের বেশে এমন দানব ঘুরে বেড়াচ্ছে কীভাবে?