অবশেষে দীর্ঘ জল্পনার অবসান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর প্রয়াণের পর তাঁর উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করল তেহরান। ইরানের ক্ষমতার অলিন্দে এখন একটাই নাম—আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি। দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী এই ব্যক্তিত্বকেই খামেনেইর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। রবিবার তেহরানের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
কে এই আলিরেজা আরাফি? কেন তাঁকেই বেছে নেওয়া হলো? আরাফি কেবল একজন উচ্চপদস্থ ধর্মগুরুই নন, তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’-এর সদস্য এবং জামিয়া আল-মুস্তাফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন চ্যান্সেলর। খামেনেইর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং অনুগত হিসেবে পরিচিত আরাফি বরাবরই কট্টরপন্থী ধারার সমর্থক। তাঁর হাতেই এখন শিয়া প্রধান দেশটির শাসনভার এবং সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে বড়সড় বদল আসতে পারে। বিশেষ করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আরাফি কতটা আক্রমণাত্মক বা সমঝোতাপূর্ণ পথ অবলম্বন করেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝে আরাফির অভিষেক এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে।