খামেনির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত ট্রাম্প! জেনেভায় ঐতিহাসিক বৈঠকের আগে রুবিওর বড় ঘোষণা

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে এবার আলোচনার টেবিলে বসতে চলেছে চিরশত্রু দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এই সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। তবে সবথেকে বড় চমক দিয়েছেন মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যদি আগ্রহ প্রকাশ করেন, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে প্রস্তুত। রুবিওর মতে, ট্রাম্প মনে করেন সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই বিশ্বের বড় বড় সমস্যার সমাধান সম্ভব।

ওমানের মধ্যস্থতায় এবং সুইজারল্যান্ডের তদারকিতে আয়োজিত এই বৈঠকে মূলত ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ওমানে প্রথম দফার পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এবার জেনেভার বৈঠকটি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে কারণ এখানে ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটগফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার উপস্থিত থাকতে পারেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তার ফল হবে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ (Very Traumatic)।

অন্যদিকে, আলোচনার আবহ থাকলেও সামরিক চাপ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে এবং তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সরাসরি সাক্ষাতের প্রস্তাব তেহরান কীভাবে গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। কূটনৈতিক মহলের মতে, যদি খামেনি ও ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বৈঠকটি সফল হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy