‘খামখেয়ালিপনা চলছে!’ ইসিআই-এর অফিসার বদলির নির্দেশে ক্ষুব্ধ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, নবান্ন বনাম কমিশন সংঘাত তুঙ্গে

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উত্তাল বাংলার রাজনীতি। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-র মতো শীর্ষ আমলাদের তড়িঘড়ি বদলির নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন (ECI)। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘খামখেয়ালি’ এবং ‘অগণতান্ত্রিক’ আখ্যা দিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন, যা নিয়ে আগামী সপ্তাহেই শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ: মামলা দায়ের করার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই একতরফাভাবে এই বিশাল রদবদল করা হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ খামখেয়ালিভাবে কাজ করছে। এটি সংবিধানের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় সরাসরি আঘাত। আমলাদের এভাবে বদলি করে আসলে পরোক্ষভাবে রাজ্যে জরুরি অবস্থা জারির চেষ্টা চলছে।” তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ ভোটারদের মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে।

নবান্ন বনাম কমিশন: সংঘাতের আবহে মামলা: ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বদলিকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-র অঙ্গুলিহেলনেই কমিশন বাংলার দক্ষ অফিসারদের সরিয়ে দিয়ে প্রশাসনকে পঙ্গু করতে চাইছে। এই আবহে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি পদক্ষেপ রাজ্য সরকারকে এক নতুন হাতিয়ার দিল। মামলায় মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও পক্ষভুক্ত করা হয়েছে।

কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ? আইনি মহলের মতে, নির্বাচনের সময় অফিসার বদলির পূর্ণ ক্ষমতা কমিশনের থাকলেও, পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া শীর্ষ স্তরের সমস্ত আধিকারিককে একসাথে সরানো নজিরবিহীন। হাইকোর্ট যদি এই মামলায় হস্তক্ষেপ করে, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড়সড় মোড় আসতে পারে। অন্যদিকে, কমিশন সূত্রের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থেই এই রদবদল অপরিহার্য ছিল। এখন দেখার, আদালতের এজলাসে কল্যাণের যুক্তি কতটা ধোপে টেকে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy